বাংলাদেশকে নিয়েই সুপার ফোরে শ্রীলংকা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
বাংলাদেশকে নিয়েই সুপার ফোরে শ্রীলংকা

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এশিয়া কাপের এবারের আসরে ভাগ্য নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের জন্য। গ্রুপ পর্বে সমীকরণের জটিলতায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুপার ফোরে জায়গা নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল টাইগারদের। তবে শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার জয়ই হয়ে উঠল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ। আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শ্রীলংকা শুধু নিজেদের সুপার ফোর নিশ্চিত করেনি, সেই সঙ্গে বাংলাদেশেরও পথ খুলে দিয়েছে পরবর্তী ধাপে খেলার।

এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে বি গ্রুপ থেকে সুপার ফোরে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ। বাদ পড়েছে আফগানিস্তান ও হংকং। গ্রুপ পর্বে লংকানরা ছিল দুর্দান্ত, টানা তিন ম্যাচে জয় পেয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার ফোরে উঠে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে জায়গা পায় পরবর্তী ধাপে।

আফগানিস্তান গ্রুপ পর্বের শুরুতে হংকংয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। পরের দুই ম্যাচে তারা হারে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে। এতে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায় গ্রুপ পর্বেই। অন্যদিকে হংকংয়ের অবস্থা আরও করুণ; তারা তিন ম্যাচে অংশ নিয়েও একটিতেও জয় পায়নি। এভাবেই বি গ্রুপের প্রতিযোগিতা শেষ হয় শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের উত্থানের মধ্য দিয়ে।

অন্যদিকে এ গ্রুপের লড়াইয়ে ভারত ও পাকিস্তান আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছে সুপার ফোরে। ভারত নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই টানা জয় পেয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিন্তভাবে এগিয়ে গেছে। পাকিস্তান যদিও ভারতের কাছে হেরেছে, তবে আরব আমিরাত এবং ওমানের বিপক্ষে জয় পেয়ে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে। ফলে ভারত ও পাকিস্তান মিলে এ গ্রুপ থেকে নিশ্চিত হয় সুপার ফোরে।

এ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ওমান। ওমান ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে টানা দুই ম্যাচে হেরে। তাই শুক্রবারের এই ম্যাচটি শুধুই নিয়ম রক্ষার লড়াই। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ এবং বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে ওমানের পক্ষে কিছু করার সুযোগ তেমন নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারত এই ম্যাচে জয় পেলেও তা গ্রুপের সমীকরণে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

এবারের এশিয়া কাপ আয়োজন করা হচ্ছে আরব আমিরাতে। আয়োজক দল হিসেবে আরব আমিরাত প্রথম থেকেই আলোচনায় থাকলেও বাস্তবে তারা খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। ভারত ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হেরে গেলেও ওমানকে হারিয়ে অন্তত একটি জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

বাংলাদেশের জন্য এবারের সুপার ফোরে ওঠা নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তি। শ্রীলংকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের হার না হলে হয়তো টাইগারদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেত। তবে ক্রিকেট সবসময়ই অনিশ্চয়তার খেলা। সেই অনিশ্চয়তাই এবারের আসরে বাংলাদেশকে এনে দিল নতুন করে লড়াইয়ের সুযোগ। সুপার ফোরে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে টাইগারদের এখন নতুন করে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে হবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ব্যাটিং এবং বোলিং ইউনিটে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডার ব্যাটিং এবং ডেথ ওভারের বোলিং নিয়ে দলের কোচিং স্টাফকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে শ্রীলংকা নিজেদের ফর্ম ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টে বড় চমক দিতে পারে।

সুপার ফোরে প্রতিটি ম্যাচই হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ—এই চার দল এখন প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ। কে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নেবে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রধান আলোচনার বিষয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা এখন আশায় বুক বাঁধছেন, সুপার ফোরের মঞ্চে টাইগাররা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে। অতীতে বহুবার চাপে ভেঙে পড়লেও এবার ভক্তরা দেখতে চান এক আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত বাংলাদেশ দলকে। আগামী ম্যাচগুলো তাই শুধু দল নয়, গোটা জাতির জন্যও গর্বের লড়াই হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত