বাংলাদেশের দুর্বলতা কোথায়, শ্রীলঙ্কা দুশ্চিন্তায় কেন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
বাংলাদেশের দুর্বলতা কোথায়, শ্রীলঙ্কা দুশ্চিন্তায় কেন

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট লড়াই এখন আর নিছক কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। নিদাহাস ট্রফি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা, মাঠের ভেতর–বাইরের নানা নাটকীয়তা আর আবেগঘন মুহূর্ত মিলিয়ে এটি এখন পরিচিত হয়েছে ক্রিকেটবিশ্বে “নাগিন ডার্বি” নামে। দুই দলের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে, তা দিনকে দিন বাড়ছেই। এবারের এশিয়া কাপেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।

শ্রীলঙ্কা গত কয়েক দিন ছিল বাংলাদেশের অঘোষিত বন্ধু। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাদের জয়ই সুপার ফোরে বাংলাদেশের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। সেই জয় শেষে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির হাসি ফুটেছিল। তবে ক্রিকেটের প্রকৃতি এমন যে, সম্পর্ক বদলায় মুহূর্তেই। আজ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচেই সেই শ্রীলঙ্কাই দাঁড়াচ্ছে প্রতিপক্ষ হয়ে।

দুই দল সাম্প্রতিক সময়ে এত বেশি মুখোমুখি হয়েছে যে একে অপরের শক্তি–দুর্বলতা এখন আর অজানা নয়। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলান কান্দাম্বি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, গত তিন–চার মাসে আমরা পাঁচ–ছয়বার তাদের সঙ্গে খেলেছি। তাই তাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা আছে। আমরা পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চম বোলার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাইফ হাসান ও শামীম হোসেন মিলে মাত্র চার ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ম্যাচটি প্রায় হাতছাড়া করে ফেলেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মেহেদী হাসান দলে ফিরতে পারেন, কারণ দুবাইয়ের উইকেট কিছুটা হলেও স্পিনারদের সহায়তা দেয়। যদিও দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট জানিয়েছেন, এখনো চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ হয়নি।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাদের স্পিন বিভাগ। বিশ্বসেরা স্পিনারদের মধ্যে গণ্য মহীশ তিকশানা এখন অফ ফর্মে ভুগছেন। তার পরিবর্তে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছিলেন দুনিত ভেল্লালাগে। কিন্তু বাবার মৃত্যুতে তিনি দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও ম্যাচের আগে তিনি দলে ফিরেছেন, তবে তাকে একাদশে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তাই শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বেশ মিশ্র। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার মাঠে টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এই এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে লিটন দাসদের ইনিংস শূন্য রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে থেমে যায়। সেই রান শ্রীলঙ্কা সহজেই তাড়া করে জয় পেয়েছিল মাত্র ১৪.৪ ওভারে। সব ম্যাচ জিতে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে সুপার ফোরে।

টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ২১ বার। এর মধ্যে মাত্র ৮ বার জিতেছে বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জয় এনে দিয়েছে টাইগাররা। এই পরিসংখ্যান অবশ্যই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। শন টেইটও মনে করেন, এই সিরিজে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনেক ম্যাচ খেলেছি। দুই দলই একে অপরকে ভালোভাবে চেনে। তাই ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচ হবে। তবে আমাদের নিজেদের খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশের আরেকটি দুর্বল দিক হয়ে উঠেছে ইনিংসের শেষভাগের ব্যাটিং। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে ৮৭ রান তুলেছিল দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ১৫৪ রানে। শেষের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচটি জিতলেও টিম ম্যানেজমেন্ট জানে, এই জায়গায় উন্নতি না হলে বড় ম্যাচে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শন টেইট অবশ্য আশাবাদী ছিলেন, আজ মাঠে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার জন্যও চ্যালেঞ্জ কম নয়। তাদের স্পিন আক্রমণ কার্যকর না হলে বাংলাদেশের ব্যাটাররা সুবিধা নিতে পারে। বিশেষ করে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানের মতো ব্যাটসম্যানরা যদি শুরুটা ভালো করে দেন, তবে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ বাড়বে। আবার বাংলাদেশের পেস বোলারদের ধারাবাহিকতা শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে।

এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্য নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সুপার ফোরে চার দলের মধ্যে যারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকবে, তারাই ফাইনালে উঠবে। তাই প্রতিটি জয় শুধু সেমিফাইনালের মতো নয়, বরং ফাইনালের পথ সুগম করার সোপান। এই কারণেই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ দলের ভেতরেও বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তবে দুর্বলতাগুলো ঠিক করার চাপও তৈরি করেছে। শ্রীলঙ্কার জন্যও এটি মান-সম্মানের লড়াই। তারা চায় নিজেদের ধারাবাহিক জয় ধরে রাখতে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, আজকের ম্যাচটি হবে সমানে-সমান লড়াই। বাংলাদেশ যদি শেষ দিকের ব্যাটিং ও পঞ্চম বোলারের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে জয় ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি তাদের স্পিন আক্রমণকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে তারাও এগিয়ে যাবে। দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাঠের প্রতিযোগিতার মান মিলিয়ে বলা যায়, নাগিন ডার্বির উত্তাপ আবারও দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত