তোরেসের জোড়া গোলে বার্সার জয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৩ বার
তোরেসের জোড়া গোলে বার্সার জয়

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লা লিগার নতুন মৌসুমের শুরুতে খানিকটা অনিশ্চয়তায় পড়লেও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে বার্সেলোনা। ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গেটাফের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা রক্ষার পথে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে দিলো কাতালান ক্লাবটি। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ফেরান তোরেস এবং একটি গোল আসে দানি ওলমোর পা থেকে। এই জয়ের ফলে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে। শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে।

ম্যাচ শুরুর আগেই বার্সেলোনার সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, আগের ম্যাচগুলোর মতো এবারও দলটি আক্রমণভাগে আধিপত্য দেখাবে। ঠিক তেমনটিই হয়েছে। প্রথমার্ধ থেকেই বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে তারা ৭১ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছে। গোলের উদ্দেশে ১৬টি শট নেয় কাতালানরা, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে প্রতিপক্ষ গেটাফে মোট ৩টি শট নিতে সক্ষম হয়, তবে তাতে খুব একটা বিপদ তৈরি করতে পারেনি।

ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই গোলের খাতা খোলে বার্সেলোনা। রাফিনহার মাপা পাস ধরে বক্সে ঢোকেন দানি ওলমো। সেখান থেকে দারুণ ব্যাক-হিল ফ্লিকে তিনি বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের উদ্দেশ্যে। প্রথম স্পর্শেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এ গোলের পরই ম্যাচের গতি বদলে যায় এবং গেটাফের রক্ষণভাগ চাপের মুখে পড়ে যায়।

এরপর ৩৪তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন তোরেস। মাঝমাঠ থেকে রাফিনহার বাড়ানো পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষককে অসহায় করে দেন তিনি। গোলরক্ষক এগিয়ে আসলেও তোরেসের শট এতটাই নিখুঁত ছিল যে তা ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না। এর মধ্য দিয়েই প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যায় ফ্লিকের শিষ্যরা। গেটাফে মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত হয় বার্সার ডিফেন্সে। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন র‍্যাশফোর্ড, যিনি দুই দিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে জোড়া গোল করেছিলেন। গোলরক্ষক তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি কাট-ব্যাক পাস দেন ওলমোর দিকে। নিখুঁত শটে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান ২৭ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত গেটাফে গোল শোধ করার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনও ছিলেন অনবদ্য। ফলে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালান জায়ান্টরা।

বার্সেলোনার এ জয়ে বড় অবদান রাখেন রাফিনহা। যদিও তিনি সরাসরি গোল পাননি, তবে প্রথম দুই গোলের ক্ষেত্রেই তার পাস ভূমিকা রাখে। আক্রমণভাগে তোরেস ও ওলমোর পাশাপাশি রাফিনহার পারফরম্যান্সও প্রশংসিত হয়েছে। ম্যাচ শেষে হ্যান্সি ফ্লিক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের প্রকৃত ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি। খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছে এবং দলের সমন্বয়ও বাড়ছে। মৌসুমের শুরুটা আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি, তবে এখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে বার্সেলোনার অবস্থান এখন দুইয়ে। পাঁচ ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ১৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ সমান ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে রয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে।

বার্সেলোনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। লিগে সর্বশেষ দুই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল পাঠিয়েছে, অথচ নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে। আক্রমণভাগে গোলের দেখা যেমন পাচ্ছে দলটি, তেমনি রক্ষণভাগেও দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টের স্টেগেন, কুন্দে, আরাউহো এবং বালদেদের সমন্বয় রক্ষণে এনে দিয়েছে স্থিতিশীলতা।

দলের প্রধান তারকা ফেরান তোরেসও ম্যাচ শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। মৌসুমটা আমাদের জন্য কঠিন হতে পারে, তবে দল হিসেবে আমরা একসাথে খেলতে চাই এবং শিরোপা ধরে রাখতে চাই।”

অন্যদিকে, গেটাফের জন্য ম্যাচটি হতাশার। মৌসুম শুরুর পর থেকেই তারা ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারাচ্ছে। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটিও তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। যদিও তারা মাঝে মাঝে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেছে, তবে কার্যকর গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা এখনো পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা—দুই মঞ্চেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। গেটাফের বিপক্ষে জয় তাই শুধুই তিন পয়েন্ট নয়, বরং পুরো দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠেছে।

মৌসুমের দীর্ঘ পথ এখনও বাকি। তবে এ ম্যাচের পর বার্সেলোনার সমর্থকদের চোখে এক ঝলক আশার আলো দেখা দিয়েছে। শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র দুই, যা পরবর্তী ম্যাচগুলিতে সহজেই ঘোচানো সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, ফ্লিকের শিষ্যরা এই গতি ধরে রাখতে পারে কিনা এবং মৌসুম শেষে আবারও শিরোপা উৎসবে মাততে পারে কিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত