বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের যুবকদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬ বার
বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের যুবকদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের শিক্ষিত যুবকদের জন্য সরকারের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগ হিসেবে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘৪৮টি জেলায় যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৮টি জেলার যুবক ও যুবতীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রকল্পের তৃতীয় ব্যাচের এই প্রশিক্ষণ তিন মাস মেয়াদি এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠান এর বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

প্রকল্প পরিচালক মো. আ. হামিদ খান জানান, প্রশিক্ষণটি ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে এবং মোট ক্লাসের সময়কাল হবে ৬০০ ঘণ্টা। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতার মাধ্যমে স্বনির্ভর ও উদ্যোগী করে তোলা। প্রশিক্ষণার্থীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন এবং অনলাইন কাজের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং অবশ্যই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যুব ও যুবতীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের বাছাইয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজ নিজ জেলার উপপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত ভর্তি কমিটির উপর। কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাই করবে। এছাড়া, যারা আইসিটি বা কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ এবং ইংরেজিতে জ্ঞানসম্পন্ন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণটির আওতায় আবেদনকারী ৪৮টি জেলার মধ্যে থাকবে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, নোয়াখালী, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ। খুলনা বিভাগের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া। রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনা। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের সময় বিনা মূল্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা পাবেন। এছাড়া, প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতা সরবরাহ করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান করা হবে।

অনলাইনে আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীরা https://project.e-laeltd.com/dyd-48 এই লিংকে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। সফলভাবে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীরা কপি ডাউনলোড করতে হবে। বৈধ আবেদনকারীদের মেসেজের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানানো হবে এবং নির্ধারিত তারিখের জন্য ‘প্রবেশপত্র ডাউনলোড’ করে প্রিন্ট করে সঙ্গে আনতে হবে। আবেদন করার শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫। পরীক্ষার স্থান ও সময় বৈধ আবেদনকারীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং এর পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালকের কার্যালয়ে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, এসএমএসের মাধ্যমে।

প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বনির্ভর ও উদ্যোগী করা এবং তাদের অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের আয় ও জীবিকা নির্বাহের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করতে সক্ষম হবেন। এই উদ্যোগ দেশের যুবকদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব বৃদ্ধি করবে এবং বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আ. হামিদ খান বলেন, “এই প্রশিক্ষণ দেশের তরুণদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ এবং প্রতিদিন ভাতা প্রদানের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি যাতে কেউ আর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা চাই যেন দেশের যুবক ও যুবতীরা ডিজিটাল দক্ষতার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হন।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেশের অর্থনীতির জন্য এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এর ফলে তাদের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে সৃষ্টিশীল অবদান যোগ হবে। এছাড়া, যুবরা নতুন দক্ষতা অর্জন করে গ্লোবাল লেভেলের কাজ করার সুযোগও পাবে।

মোটের ওপর, বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেশের শিক্ষিত যুবকদের জন্য এক বিরাট সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ৪৮ জেলার যুবক ও যুবতীরা এই সুযোগ থেকে লাভবান হতে পারবে, যা আগামী দিনে দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত