ব্যালন ডি’অর না জিতলেও বিশ্বরেকর্ড ঠিকই গড়লেন ইয়ামাল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ব্যালন ডি’অর না জিতলেও বিশ্বরেকর্ড ঠিকই গড়লেন ইয়ামাল

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জেতার স্বপ্ন এবারও পূরণ হলো না স্পেন ও বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের। উসমান দেম্বেলের পরেই তার নাম উচ্চারিত হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ওঠা হয়নি এই কিশোর প্রতিভার। তবে ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হলেও হতাশার কোনো জায়গা নেই ইয়ামালের জন্য। কারণ তিনি রেকর্ড গড়ে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন এক অনন্য কীর্তির মাধ্যমে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইয়ামাল জিতে নিয়েছেন কোপা ট্রফি—যা দেওয়া হয় বিশ্বের সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারকে। গত বছরও এই পুরস্কার উঠেছিল তার হাতে। আর এবার দ্বিতীয়বারের মতো তা জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বার্সেলোনার এই তরুণ প্রতিভা। কোপা ট্রফির ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলারই টানা দুইবার এই সম্মান অর্জন করতে পারেননি। ফলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইয়ামালের হাতে এই ট্রফি ওঠা ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ইয়ামালের এই অর্জন তার বয়সের সঙ্গে তুলনা করলে আরও বিস্ময়কর মনে হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ইউরোপের শীর্ষ লিগে বার্সেলোনার হয়ে নিয়মিত খেলছেন, জাতীয় দলে হয়ে উঠেছেন অপরিহার্য সদস্য এবং ব্যক্তিগত স্বীকৃতির মঞ্চেও নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, যদি ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অর তার নাগালের বাইরে থাকবে না।

এবারের কোপা ট্রফির দৌড়ে ছিলেন ইয়ামালের সতীর্থ পাউ কুবারসি, পিএসজির জোয়াও নেভেস ও দেজ্যের দুয়ে, ব্রাজিলের তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও উইলিয়ান ও তুরস্কের কেনান য়িলদিজ। তবে সবাইকে পেছনে ফেলে নিরঙ্কুশভাবে এগিয়ে গেছেন ইয়ামাল। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তার গোল, অ্যাসিস্ট এবং খেলার ধরন ফুটবল বোদ্ধাদের মুগ্ধ করেছে।

২০১৮ সালে প্রথমবার কোপা ট্রফি দেওয়া হয় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। এরপর ক্রমান্বয়ে জুভেন্টাসের মাথিয়াস ডি লিখট, বার্সেলোনার পেদ্রি ও গাভি এবং রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহ্যাম এই পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু কারও পক্ষেই দুইবার জেতা সম্ভব হয়নি। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ইয়ামাল। ফলে তরুণ প্রতিভাদের পুরস্কারের তালিকায় তার নাম এখন বিশেষ মর্যাদার আসনে।

পুরস্কার জয়ের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইয়ামাল আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আবারও এখানে দাঁড়াতে পারা আমার জন্য গর্বের। ধন্যবাদ জানাই বার্সেলোনাকে, আমার জাতীয় দলকে, সতীর্থদের, বিশেষ করে রাফিনিয়া ও কুবারসিকে। আর অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই আমাদের কোচ হ্যান্সি ফ্লিককে, যিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন এবং আমাকে নিজের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করেছেন।”

বিশ্ব ফুটবলের বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের এই সাফল্য কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। অল্প বয়স থেকেই তার মধ্যে যে পরিপক্বতা ও খেলার প্রতি দায়বদ্ধতা দেখা যাচ্ছে, তা তাকে ভিন্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় অভিষেক ঘটে তার, যা ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এরপর থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন যে তাকে ঘিরে যত আশা তৈরি হয়েছে তা যথার্থ।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, ইয়ামালের খেলার ধরণ আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। দ্রুত দৌড়, নিখুঁত ড্রিবলিং, সৃজনশীল পাসিং এবং গোল করার প্রবণতা তাকে এক অনন্য ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলছে। এজন্য অনেকেই তাকে নতুন যুগের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন। যদিও তাকে ইতোমধ্যেই লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করা শুরু হয়েছে, তবে ফুটবল বোদ্ধারা মনে করছেন, ইয়ামালকে তার নিজস্ব প্রতিভা দিয়েই আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে হবে।

ব্যালন ডি’অর এবার হাতছাড়া হলেও ইয়ামালের সামনে সময় অনেক। মাত্র ১৮ বছর বয়স মানেই অন্তত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবেন। এই বয়সে টানা দুইবার কোপা ট্রফি জয় তাকে যে মানসিক দৃঢ়তা দিয়েছে, তা ভবিষ্যতে বড় অর্জনের পথে শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করবে।

কোপা ট্রফি জয় শুধুই ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং তার ক্লাব বার্সেলোনার জন্যও এক বিশাল স্বীকৃতি। সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক ও ক্রীড়া সংকটে জর্জরিত বার্সেলোনা ইয়ামালের মতো প্রতিভার মাধ্যমে নতুন আশা দেখতে পাচ্ছে। ক্লাব সমর্থকদের কাছে ইয়ামাল ইতোমধ্যেই ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অনেকেই মনে করছেন, বার্সার আগামী দিনের সাফল্যের মূল ভিত্তি হয়ে উঠবেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পেন জাতীয় দলের পক্ষেও ইয়ামালের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। ইউরো ২০২৪-এ তার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে সমর্থক ও সমালোচকদের। এখন তিনি জাতীয় দলের প্রথম একাদশে অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। এই বয়সে এ ধরনের অর্জন স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে।

ব্যালন ডি’অরের মূল পুরস্কার এবার না জিতলেও বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে ইয়ামালের অবস্থান যে দিন দিন মজবুত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। কোপা ট্রফির ইতিহাসে টানা দুইবার জয়ী হওয়ার নজিরবিহীন রেকর্ডই তাকে আলাদা আসনে বসিয়েছে। আগামী কয়েক বছরে তিনি কেবল এই পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং বড় মঞ্চের সেরা পুরস্কারটিও তার হাতে উঠবে—এমন বিশ্বাস করছেন ভক্তরা।

শেষ পর্যন্ত ফুটবল মানেই স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প। ইয়ামালের গল্পও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, তবে তার মধ্যে আছে নতুন প্রজন্মের প্রতীকী শক্তি। ব্যালন ডি’অর না জিতেও তিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্য শুধু একটিমাত্র পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধারাবাহিকতা, প্রতিভা ও নতুন রেকর্ডই আসল জয়। তাই বলা যায়, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত