কুবির সুমাইয়া হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
কুবির শিক্ষার্থী সুমাইয়ার নৃশংস হত্যা: দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন এবং তার মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বলনের কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের টাউন হলে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততার সঙ্গে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত সুমাইয়ার সহপাঠী নূর মোহাম্মদ সোহান বলেন, “আজ সুমাইয়ার হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা ফরেনসিক রিপোর্ট পাইনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। এই বিলম্ব সহপাঠীদের মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে। তাই আমরা আজ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের একটাই দাবি, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক। প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হোক এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

শামীউন ঐশী বলেন, “প্রথমে আমরা জানি ধর্ষণচেষ্টা করতে গিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে জানতে পারি, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। এই হত্যার পিছনে আরও কোনো মদতদাতা আছে কিনা, প্রশাসনের উচিত তা খতিয়ে দেখা। এটি একটি বর্বর হত্যাকাণ্ড। পুলিশ টালবাহানা করছে। আমরা চাই, সুষ্ঠু বিচার হোক। মোমবাতির আগুন আমাদের প্রতিবাদের ভাষা।”

সুমাইয়ার ভাইও তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মা আর বোনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হোক। ১৫ দিনেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কেন আলামত জনসম্মুখে আনা হলো না, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলো না, সেটি আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনকে বলতে চাই। আসামির যাতে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা যায়, সে যেন কোন ফাঁকফোকর দিয়ে বের না হতে পারে, সেই প্রত্যাশা করি।”

পুলিশি তদারকিতে জানা গেছে, এই হত্যাকারি ২০২৩ সালে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই মামলায় বাদী মীমাংসা না করায় আসামি এখনও ওয়ারেন্টভুক্ত। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এই আসামি আইনের আওতায় না এসে পুনরায় হত্যা করতে পারলো এবং তারপরও তার কর্মকাণ্ডের তদারকি পর্যাপ্তভাবে হয়নি। সুমাইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আসামির সঙ্গে যাদেরও যোগসাজশ থাকতে পারে, তাদের যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হোক এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশের পাশাপাশি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, হত্যাকারী যদি দ্রুত বিচার না পান, তবে সমাজে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

শিক্ষার্থীদের মতে, সুমাইয়ার হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীরা কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে তা এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে। তাই তাদের দাবি, শুধুমাত্র হত্যাকারী নয়, যাদের সহযোগিতা বা উদাসীনতা এই ঘটনার পেছনে ছিল, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।

এছাড়া সুমাইয়ার ভাই জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন, বার কাউন্সিলের কেউ এই আসামির পক্ষে অবস্থান নেবেন না। আইন এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা রাখতে চাই, যাতে কোনো প্রভাব বা অনৈতিক প্রভাব তৈরি না হয়। তিনি বলেন, “আমরা দেখছি কীভাবে এই মামলা সুষ্ঠু ও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা যায়। সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে নিশ্চিত করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের কার্যক্রম যথাযথ নয় এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করা হোক, হত্যার প্রকৃত ঘটনা সর্বজনের সামনে আনা হোক এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

এদিকে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তারা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবাদ শুধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সমস্ত শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তাগিদ দিয়েছেন, যাতে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে।

ফরেনসিক রিপোর্টে আসামির কর্মকাণ্ড ও হত্যার প্রকৃত ধারা দ্রুত প্রকাশ না হলে শিক্ষার্থীরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি। তবে যদি প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও বর্ধিত হবে। আমাদের মূল দাবি সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”

সুমাইয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কেবল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমগ্র দেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নারী শিক্ষার্থীর সুরক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি তাদের প্রতিবাদের প্রতীক। এটি শুধু একাধিক মানুষের মধ্যে একত্রিত হওয়ার মাধ্যম নয়, বরং সমাজে ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানানোর একটি শক্তিশালী উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, হত্যাকারীর আগের অপরাধ এবং পুনরায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া বিষয়টি প্রশাসন ও আইন প্রণয়নকারীদের জন্য গভীরভাবে চিন্তার বিষয়। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হবে এবং দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।

সোমবারের মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের একজোট শক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়। তারা প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মোমবাতি প্রজ্বলন শেষে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে অপরাধীদের উদ্দীপনা কমানো সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে দেশে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত