আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা ১৪ দিন আগে ভোট দিতে পারবেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা ১৪ দিন আগে ভোট দিতে পারবেন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সমানভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য ১৪ দিন আগে ব্যালট প্রেরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশ থেকে দূরত্ব, ডাকবিভাগের কার্যপ্রণালী এবং আন্তর্জাতিক সময়ে লাগবেপড়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য দুটি খামের ব্যবস্থা করা হবে। মুদ্রিত ব্যালট সাদা খামে পাঠানো হবে। ভোট দেওয়ার পর প্রবাসীরা হলুদ খামে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন। খামের রঙ ব্যবহার করার উদ্দেশ্য হলো ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র নিবন্ধিত ভোটাররাই ভোট দিতে পারবেন। প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা এবার প্রায় ৫০ লাখে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

প্রত্যেক প্রবাসী ভোটারের পেছনে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। ইতিমধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটার নিবন্ধনের প্রচার শুরু হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের মিশনগুলো এই প্রচার কার্যক্রমে সহায়তা করছে। নিবন্ধনের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের জন্য ব্যালট মুদ্রণ করা হবে।

ইসি ও ডাক বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, কারাগারে থাকা বন্দি এবং নির্বাচনি কাজে যুক্ত নাগরিকরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এই ভোট দেওয়ার জন্য তাদেরও আগে থেকে নিবন্ধন করতে হবে। এসব ব্যক্তির কাছে ভোটগ্রহণের এক সপ্তাহ আগে ব্যালট পাঠানো হবে। ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালটের অবস্থান গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ব্যবহার করে তদারকি করা হবে।

প্রবাসীদের জন্য ব্যালট ছাপানো হবে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগে। তাই ব্যালটে শুধু দলের নাম ও প্রতীক থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্যও কমপক্ষে ১৫টি প্রতীক সংযুক্ত থাকবে। সংসদীয় ৩০০ আসনে প্রার্থীর নাম প্রবাসীরা তাদের নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে জানতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী ভোট প্রদান করবেন। দেশের অভ্যন্তরে ভোটদানের ব্যালটে থাকবে প্রার্থীর নাম ও দলীয় প্রতীক। দেশীয় ভোটারের পেছনে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ টাকা।

প্রবাসী ভোটদানে ব্যবহৃত ‘সিস্টেম উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন (ওসিভি-এসডিআই)’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন থেকে। এই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় অনলাইন নিবন্ধন অ্যাপ তৈরিসহ প্রাসঙ্গিক খরচ নির্বাহ করা হবে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ তৈরি, পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরের ভোটারদের নিবন্ধন, ট্র্যাকিং মডিউল এবং প্রতীক ও প্রার্থীদের সংযুক্তকরণ কাজ শেষ হবে। ১ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মোবাইল অ্যাপের ট্রায়াল, নিরীক্ষা, ত্রুটি সংশোধন এবং ডেভেলপমেন্ট করা হবে। ১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যালট পেপার, নির্দেশিকা ও ঘোষণাপত্র মুদ্রণ করা হবে। ভোটার তালিকা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

ডাক বিভাগ খামের কাস্টমাইজেশন করবে ১৫ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো হবে ২০ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভোটার তালিকা মুদ্রণ হবে ১ থেকে ৫ ডিসেম্বর।

নিবন্ধিত প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারসহ দেশের অভ্যন্তরে ভোটে নিয়োজিত কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এ উদ্দেশ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল সানাউল্লাহ জানান, “আমাদের অনুমান অনুযায়ী প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী ভোটে অংশ নেবেন। নিবন্ধনকারী আরও বেশি হতে পারে। এই সংখ্যক প্রবাসী ভোটদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রেকর্ড সৃষ্টি করবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের ব্যালট দ্রুত সময়ে ছাপানো শুরু হবে। এই ব্যালটে প্রার্থীর নাম থাকবে না, শুধু দল এবং প্রতীক থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১০ থেকে ১৫টি প্রতীক সংযুক্ত থাকবে। রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শুরু হবে। দেশের বাইরে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলো ইতিমধ্যেই প্রবাসীদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার শুরু করেছে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকারের জন্য ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং) প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। নবনিযুক্ত ইসি জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, “প্রবাসী ভোটাররা কীভাবে নিবন্ধন করবেন, ভোট দেবেন এবং ব্যালট ফিরত পাঠাবেন—এর একটি মোটামুটি রূপরেখা ইতিমধ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশন অনুমোদনের পরে এটি কার্যকর হবে।”

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেলজিয়ামের রানিসহ শীর্ষ কূটনীতিক ও নেতৃবৃন্দের বৈঠক

এভাবে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পুরো ভোট প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা, সময়োপযোগী ব্যালট প্রেরণ এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ব্যবহার করা হবে। এতে প্রবাসী ভোটারের গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং ভোট প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর হবে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ অনুযায়ী, প্রবাসী ভোটের সঠিক বাস্তবায়ন এবং ব্যালট ফেরত নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রক্রিয়া পরিকল্পিত ও পর্যবেক্ষণযোগ্য। দেশীয় এবং প্রবাসী ভোটারের জন্য পৃথক ব্যালট ব্যবস্থা, খামের রঙের ব্যবহার এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তুলবে।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি মিশনগুলো প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ব্যালট ট্র্যাকিং সহজতর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রবাসী ভোটিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে বলে ইসি আশা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত