আরেকটি দল পাচ্ছে ইসির নিবন্দন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার
নিবন্ধনের জন্য ১০ দলের কার্যক্রমে অনুসন্ধান শুরু ইসির

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিক উন্মোচনের পথে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। আগামীকাল (বুধবার) নির্বাচন কমিশন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন প্রদান করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দলকে বরাদ্দ দেয়া হবে নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতীক। এই ঘোষণা দলের চেয়ারমেন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

লেবার পার্টির দীর্ঘতম অপেক্ষার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি নিবন্ধন এবং প্রতীক পাওয়ার দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ ছিল। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন তাদের আবেদন প্রথমে নামঞ্জুর করেছিল। তবে দল হাল ছাড়েনি। ২৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন।

এই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর হালদার ও বিচারপতি এ.কে.এম রবিউল আউয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৯ মে রায় ঘোষণা করে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে লেবার পার্টিকে প্রতীকসহ নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ লেবার পার্টি আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজপথে সক্রিয় একটি রাজনৈতিক দল। আমরা সর্বদা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লেবার পার্টির দুইজন নেতা শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য নেতা ও কর্মী আহত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরে দলটি হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। আমরা রাজনৈতিকভাবে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত থাকলেও আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের মুখ দেখেছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, লেবার পার্টির এই নিবন্ধন দেশের রাজনীতিতে নতুন আলো এবং সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এটি শুধু দলের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বহুমাত্রিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের রায় যে রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করছে, তা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কাছে সঙ্কেত প্রেরণ করবে যে নিয়ম ও ন্যায় বিচার কার্যকর রয়েছে।

লেবার পার্টির নিবন্ধনের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। দলটি নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। এছাড়া দলীয় প্রতীক পাওয়ায় ভোটারদের কাছে তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা পাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

ডাঃ ইরান আরও বলেন, “নিবন্ধন এবং প্রতীক প্রাপ্তির মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব। আমাদের লক্ষ্য দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা। লেবার পার্টি সবসময় জনগণের কল্যাণ ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে কাজ করবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনা একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে যে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলগুলোকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। এছাড়া এটি তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হবে, যারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করা হবে। কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, লেবার পার্টি তাদের কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।

অর্থাৎ, আগামীকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করবে। দলীয় প্রতীক পেয়ে তারা এখন থেকে আরও শক্তিশালীভাবে দেশের রাজনীতি ও জনসাধারণের কল্যাণে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির নিবন্ধন কেবল একটি দলীয় অর্জন নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা কার্যকর থাকার প্রতিফলন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক সংগ্রামের পর এই অর্জন তাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

এভাবে, বাংলাদেশ লেবার পার্টি নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং দলীয় প্রতীক প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক বহুমাত্রিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, দীর্ঘ আইনি সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পর বাংলাদেশ লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়ে নিজস্ব প্রতীক পেতে যাচ্ছে। এটি দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত