মানিকছড়িতে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে আহত ৫

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
👉 শর্ট টাইটেল: সুনামগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামগামী শান্তি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মানিকছড়ি উপজেলার বড়ডলু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শান্তি পরিবহনের বাসটি খাগড়াছড়ি থেকে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী বহন করে আসছিল। বড়ডলু এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

আহতদের মধ্যে মানিকছড়ি উপজেলার কুমারী এলাকার বাসিন্দা ঞোহ্লা মারমা (৩২), ফটিকছড়ির উত্তর দূরং এলাকার জারিয়া বেগম (৬৮), দীঘিনালার কবাখালী এলাকার পারুল আক্তার (৭২) ও রোকেয়া বেগম (৪৫) রয়েছেন। এ ছাড়া সিএনজি চালক, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা মো. ছাব্বির হোসেন (৪২) মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চারজনকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখা হলেও চালক ছাব্বির হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আহতদের বেশ কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট এবং সিএনজি চালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার করা হয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান এবং আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন। তবে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত শান্তি পরিবহনের বাসটি ঘটনাস্থল ছেড়ে দ্রুত চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি থানার হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও জানান, শান্তি পরিবহনের বাসের চালককে আটকের জন্য অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও সড়কটিতে অনেক জায়গায় সংকীর্ণ মোড় ও গর্ত রয়েছে। তদুপরি অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানো এবং অযথা ওভারটেক করার প্রবণতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক মাস আগেও একই এলাকায় একটি বাস-সিএনজি সংঘর্ষে কয়েকজন প্রাণ হারান। অথচ এসব দুর্ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো সড়ক পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা, যেখানে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই না করে তাদের গাড়ি চালাতে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘসময় গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্ত হয়ে চালকের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সড়কের পাশে অবৈধভাবে রাখা মালবাহী ট্রাক ও যত্রতত্র থেমে থাকা বাসও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ঘটনার পর আহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রতিদিন সড়কে অসংখ্য দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত বা নিহত হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন ও পরিবহন মালিকদের উদাসীনতার কারণে কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, সড়ক সংস্কার এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জীবনহানি ঘটতেই থাকবে।

মানিকছড়ির এ দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে দেশের সড়কপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থেকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। তাদের দাবি, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের নেওয়া উচিত। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি পালিয়ে যাওয়াকে তারা চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলন এবং সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, প্রতিদিনের দুর্ঘটনার পর শুধু দোষী চালককে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সড়ক ব্যবস্থাপনা সংস্কার, সঠিক নিয়মে গণপরিবহন পরিচালনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে দুর্ঘটনা হ্রাসের মূল চাবিকাঠি।

মানিকছড়ির মঙ্গলবার সকালের এই দুর্ঘটনা আবারও জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে বের হলেই এখন জীবন নিয়ে শঙ্কা কাজ করে। সরকার ও প্রশাসন যদি এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে দুর্ঘটনার এ ধারাবাহিকতা থামবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত