মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেলেন বিএমইটি পরিচালক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেলেন বিএমইটি পরিচালক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সরকারি নির্দেশে জনশক্তি রফতানি ও কর্মসংস্থান খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং মনিটরিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর উপ-সচিব পদমর্যাদার পরিচালক তাজিম-উর-রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি বিএমইটির অফিস এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সকল তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা তাজিম-উর-রহমান মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ৫ ধারা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশে বিএমইটি ও বিভিন্ন এলাকায় রিক্রুটিং এজেন্সির অধিক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পাবেন।

এই ক্ষমতা প্রদান প্রসঙ্গে সরকার বলেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই অবহিত করবেন। প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার অধিক্ষেত্রে অন্যান্য সংস্থায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টি তদারকি করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনশক্তি রফতানি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন এবং নিয়ন্ত্রণ বিধি কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। দেশে জনশক্তি রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অসাধু বা অনিয়মকারীদের দমন এবং শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এছাড়াও, এই পদক্ষেপ জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রজ্ঞাপনে নির্দেশিত হলো, কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস বা বিএমইটির স্থানীয় কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তারা যদি আইন লঙ্ঘন করেন, তবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান ও বিদেশি কর্মসংস্থান নীতিকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিক্রুটিং এজেন্সি এবং জনশক্তি রফতানি খাতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করার মাধ্যমে অনিয়মের হাত থেকে দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান প্রার্থীদের নিয়ে কোনো প্রকার শোষণ বা প্রতারণার ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে। তাজিম-উর-রহমানের অধীনে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সেক্টরে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা এবং নিয়মবিধি কার্যকর করতে মোবাইল কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। প্রজ্ঞাপনে যেখানে বলা হয়েছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন, সেখানে দেখা যাচ্ছে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন বজায় রাখার পাশাপাশি অনিয়মী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে শ্রম বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাজিম-উর-রহমানও জানান, তিনি এই বিশেষ ক্ষমতার মাধ্যমে দেশের জনশক্তি রফতানি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য কাজ করবেন। বিএমইটি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং জনশক্তি রফতানি খাতে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হবে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়ম সহজেই ধরা পড়বে। ফলে, দেশের বিদেশি কর্মসংস্থান খাতের মান উন্নয়ন হবে এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে।

মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, যা শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাজিম-উর-রহমান এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন যে, বিদেশে কর্মসংস্থান প্রার্থীরা সঠিকভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং কোনো অনিয়মের শিকার হবেন না।

এতে দেখা যাচ্ছে, সরকার জনশক্তি রফতানি খাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হবে।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের জনশক্তি রফতানি খাতে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয় ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করে এই প্রক্রিয়া দেশের শ্রম বাজারকে আরও উন্নত এবং সুশৃঙ্খল করবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে বাংলাদেশে জনশক্তি রফতানি ও বিদেশি কর্মসংস্থান খাতের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা দেশে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি বিদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

সমষ্টিগতভাবে বলা যায়, দেশের জনশক্তি রফতানি খাতে আইনশৃঙ্খলা ও নিয়মবিধি কার্যকর করার জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। বিএমইটির পরিচালক তাজিম-উর-রহমানের অধীনে পরিচালিত এই উদ্যোগ বিদেশে কর্মসংস্থান প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অনিয়মকারী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত