ওবিয়েদোর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে বার্সার জয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
👉 শর্ট টাইটেল: ওবিয়েদোর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে বার্সার জয়

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লা লিগার মৌসুম যতই অগ্রসর হচ্ছে, ততই তীব্র হচ্ছে শীর্ষ দলগুলোর লড়াই। সেই লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শক্তি ও দৃঢ়তার পরিচয় দিল বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতে এক অপ্রত্যাশিত ভুলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়াল ওবিয়েদোকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা। নতুন কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে দলটি এখনও ছন্দ খুঁজে বেড়াচ্ছে, তবে এই জয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করল যে কঠিন পরিস্থিতি সামলে উঠতে তাদের সক্ষমতা আগের মতোই শক্তিশালী।

ম্যাচের প্রথম ভাগটা একেবারেই বার্সেলোনার অনুকূলে ছিল না। শুরুতেই দানি ওলমো ও রাশফোর্ডের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় দলটি গোলশূন্য থাকল। এর মধ্যে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ যেন ক্রমাগত হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। ওবিয়েদো গোলরক্ষক একের পর এক শট ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন, যা ম্যাচের প্রথম ত্রিশ মিনিটে বার্সেলোনাকে আক্রমণে আগ্রাসী হলেও কার্যকর করে তুলতে ব্যর্থ করে। এরই মাঝে আসে সেই ধাক্কা—৩৩তম মিনিটে ডিফেন্ডার জোয়ান গার্সিয়ার ভয়াবহ ভুলে গোল হজম করতে হয় বার্সাকে।

সেপ্টেম্বরের ২০ দিনে এসেছে ১৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

বক্সের বাইরে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টায় গার্সিয়া যখন অসাবধানতাবশত বল প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দেন, তখন সেটিই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আলবের্তো রেইনা প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে বল জালে পাঠান। গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সেই বল কেবল দর্শনীয় ছিল না, বরং পুরো ক্যাম্পে অচেনা এক স্তব্ধতা নামিয়ে আনে। অনেকের ধারণা হচ্ছিল, হয়তো এই ম্যাচে ওবিয়েদো কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে।

তবে বার্সেলোনার প্রকৃত শক্তি তখনও প্রকাশ পায়নি। বিরতির পর ফ্লিকের নির্দেশনায় দলটি নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। খেলার গতি বাড়তে শুরু করে, আক্রমণ আরও ধারালো হয়। ৫৬তম মিনিটে ফেররান তোরেসের ব্যর্থ শট গড়িয়ে গিয়ে সুযোগ তৈরি করে দেয় ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সামনে। গার্সিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের ভুল ঢেকে দিয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠলেন দলের ত্রাণকর্তা।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বার্সেলোনার হাতে চলে যায়। মধ্যমাঠে ফ্রেংকি ডি ইয়ং ও পেদ্রি ছন্দ তৈরি করেন, রাফিনহা ক্রমাগত ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ সাজাতে থাকেন। অবশেষে ৭০তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত লিড। ডি ইয়ংয়ের নিখুঁত ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান পোলিশ তারকা রবার্ট লেভানডোভস্কি। গোলের পর তার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উপস্থিতি দলের খেলায় স্থিতি এনে দেয়।

শেষ দিকে যখন ম্যাচ প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে, তখনও থেমে থাকেননি কাতালানরা। ৮৮তম মিনিটে রাশফোর্ডের নেওয়া কর্নার থেকে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো হেডে গোল করেন। এই গোলটি কেবল ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিতই করেনি, বরং সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহও তৈরি করে। ভুলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত এমনভাবে জয়ের বন্দরে পৌঁছাল, যেন ম্যাচের শুরুতে ঘটে যাওয়া সেই ধাক্কাটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ হলো ১৬ পয়েন্ট। তারা লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। শীর্ষে আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, যাদের পয়েন্ট ১৮। এই ব্যবধান আপাতত সামান্য হলেও মৌসুম যত এগোবে, ততই প্রতিটি পয়েন্ট শিরোপা দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে রিয়াল ও বার্সার শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা লা লিগার প্রতিটি মৌসুমেই ফুটবল বিশ্বকে নতুন নাটকীয়তার স্বাদ দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে বার্সেলোনা দেখিয়েছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা। শুরুতে ভুল করে পিছিয়ে পড়লেও দলটি ভেঙে পড়েনি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের কৌশলগত পরিবর্তনও ছিল দারুণ কার্যকর। বিরতির পর দলের খেলার গতি বাড়িয়ে দেওয়াই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়। লেভানডোভস্কি ও আরাউহোর অভিজ্ঞতা এবং ডি ইয়ংয়ের সৃজনশীলতা বার্সেলোনাকে এগিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, রিয়াল ওবিয়েদো প্রথমার্ধে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার শক্তির সামনে টিকতে পারেনি। তাদের গোলরক্ষক কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করলেও আক্রমণভাগ খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি। এর ফলেই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তারা চাপে পড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত গোল হজম করতে থাকে।

বার্সেলোনার এই জয়ের মাধ্যমে বোঝা গেল, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খোঁড়াখুঁড়ি থাকলেও দলটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞ তারকাদের সমন্বয়ই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আগামী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে তারা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে লড়াইয়ে সমানতালে এগোতে পারবে।

সব মিলিয়ে, বার্সেলোনার এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এটি একটি বার্তা—কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি এলেও তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। আর এই মানসিক শক্তিই মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তাদের শিরোপা দৌড়ে টিকিয়ে রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত