সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি সংখ্যা বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার

প্রকাশ ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গত এক বছরে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর সংখ্যা লক্ষণীয় হারে বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের নতুন সুযোগগুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৬১ হাজার। এক বছর আগে দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিল ৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭৫ হাজারের মতো, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৩৬ হাজারে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪১ শতাংশ বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার করছেন।

ফেসবুকের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারেও ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনস্টাগ্রামে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশি ব্যবহারকারী ছিলেন ৭৬ লাখ ১৬ হাজার, যা ২০২৫ সালের আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ লাখ ৩৮ হাজারে। এই বৃদ্ধির ফলে দেশের তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের সক্ষমতা এবং নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশি ব্যবহারকারী ছিলেন ৬ কোটি ১৭ লাখ ৮৪ হাজার, যা ২০২৫ সালের আগস্টে বেড়ে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি প্রসার নয়, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার মূল কারণ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে ও বিপক্ষে প্রচারণা, মতবিনিময়, এবং রাজনৈতিক বিতর্কের জন্য সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং দলীয় প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে পরিণত করেছে।

এছাড়া, সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক নাগরিক তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে, সংবাদ ও তথ্য শেয়ার করতে, এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করতে সক্রিয় হয়েছেন। এই কার্যক্রমও ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম নেপোলিয়নক্যাটের পরিসংখ্যান অনুসারে, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৯৫ লাখের বেশি। এই জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। তরুণ ও মধ্যবয়সী নাগরিকদের সক্রিয় ব্যবহার সামাজিকমাধ্যমের বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বেড়েছে শিক্ষামূলক ও পেশাগত কার্যক্রমেও। অনলাইন শিক্ষামূলক গ্রুপ, কাজের নেটওয়ার্ক, তথ্য শেয়ারিং, এবং বিনোদনমূলক কন্টেন্ট মানুষের সময় এবং আগ্রহের সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছে। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এই বৃদ্ধির পেছনের প্রধান নেপথ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে তথ্য আদানপ্রদানে গতি বেড়ে যায়। নাগরিকরা দ্রুত খবর, সামাজিক ঘটনা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। এটি রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত রাজনৈতিক বিতর্ক এবং কাদা ছোড়াছুড়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কখনো কখনো বিষাক্ত পরিবেশেও রূপ দিতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ম্যাসেঞ্জারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশে ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাবও বৃদ্ধি পায়। এটি রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে তাদের কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রসারণের সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী বছরগুলিতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, কারণ প্রযুক্তিগত প্রসার, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।

পর্যবেক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, সামাজিকমাধ্যমের ব্যবহার বৃদ্ধিতে শিক্ষাগত ও আর্থ-সামাজিক উপাদানও প্রভাব ফেলছে। উচ্চ শিক্ষার ছাত্রছাত্রী, নগর এলাকার তরুণ পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক শ্রেণির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বেশি। তারা অনলাইন আলোচনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি, পেশাগত নেটওয়ার্কিং এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়। এই সক্রিয়তা মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বৃদ্ধিতে ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, তথ্য যাচাই, এবং যোগাযোগ দক্ষতার ক্ষেত্রে আরও সাবলীল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দক্ষতা সামাজিক এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

সর্বশেষে, বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নেপথ্যের প্রভাব ও সামাজিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষাগত উপাদানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক কার্যক্রম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং শিক্ষাগত সচেতনতার সমন্বয়ে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল, রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত