প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ায় পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণকালে বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, “সম্প্রীতি বজায় রেখে সীমান্ত এলাকার মণ্ডপগুলোতে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং নির্বিঘ্নে উৎসব সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করে যাবো।”
তিনি আরও বলেন, পূজা উদযাপনে অংশগ্রহণকারী সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যাতে কোন ধরনের অশান্তি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ার সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ, পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক দীপক কুমার ঘোষ, সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বাবু, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক জুটন বনিক এবং প্রিন্ট ও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মিশু উপস্থিত ছিলেন। তারা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির সক্রিয় ভূমিকা পূজা উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলিত হয়ে পূজা উদযাপন করছেন। বিজিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয় পূজাকে আনন্দময় এবং নিরাপদ করেছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সম্প্রতি নিরাপত্তা জোরদারের কারণে স্থানীয় জনগণ এবং পূজা উদযাপনকারীরা শান্তি বজায় রাখতে পারছেন। বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে অতিরিক্ত টহল এবং মণ্ডপগুলোতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটি মিলিতভাবে নিরাপত্তা বিষয়ক কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
এবারের পূজা উদযাপন বিশেষভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লে. কর্ণেল জাব্বার আহমেদ জানান, জনগণ যেন বিনা ভয়ে পূজা উদযাপন করতে পারে, তার জন্য বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, টহল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ার সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ বলেন, সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পূজা মণ্ডপগুলোতে বিজিবির উপস্থিতি উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে সহায়তা করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকার ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্থানীয়রা মনে করেন, বিজিবি ও প্রশাসনের সহায়ক ভূমিকার কারণে পূজা উদযাপন নিরাপদ এবং বিনোদনমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক দীপক কুমার ঘোষ বলেন, “সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলা বিষয়ে আতঙ্কিত নয়। বিজিবি ও প্রশাসন পূর্ণ তৎপরতা দেখাচ্ছে। এটি আমাদের পূজা উদযাপনকে আরও স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনন্দময় করে তুলেছে।”
উল্লেখযোগ্য, শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া এবং আখাউড়ার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ তদারকি নিশ্চিত করছে যে, কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে উৎসব ব্যাহত হবে না। এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষ ও পূজা উদযাপনকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে সীমান্তে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া স্থানীয় কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে নিরাপত্তা, জনসচেতনতা এবং উৎসব পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
এভাবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকায় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ার পূজা উদযাপন একদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় ঐক্যকে প্রমাণ করছে, অন্যদিকে বিজিবি ও প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের পূজা উদযাপনকে নির্বিঘ্ন এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করছে।