ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
রাজনৈতিক দল ও কমিশন ইতিহাস রচনা করেছে: ড. ইউনূস

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) অধিবেশন শেষে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় দশ দিনব্যাপী এই সফরে তিনি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার সুযোগ পেয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংস্কার কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে তিনি নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তখন বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিট। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে তিনি গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। সেই সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয়েছেন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন এবং উন্নয়ন, মানবাধিকার ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সফরের অংশ হিসেবে তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। নিউইয়র্ক অবস্থানকালে তিনি বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত “সোশ্যাল বিজনেস, ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি” শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিশ্ব গঠনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক ব্যবসা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করার আশ্বাস দেন এবং এই প্রক্রিয়াকে গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের আরও ঘন ঘন বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

নিউইয়র্ক সফরকালে তার সঙ্গে বিশ্বের অন্তত ১১টি দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার সাবেক প্রধান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকরা সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় অর্থনীতি, বিনিয়োগ, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে মতবিনিময় হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়।

সফরের শেষদিকে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত “মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি” বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এই সংকটকে শুধু মানবিক নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের যে দিকগুলোকে সামনে এনেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর আস্থা অর্জনে এই সফর কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরছেন এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া একটি সংবেদনশীল মোড়ে রয়েছে। তার এই সফরের ইতিবাচক প্রতিফলন আগামী দিনের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত