বিসিবি নির্বাচন নিয়ে যা বললেন সাকিব

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৩ বার
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে যা বললেন সাকিব

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তার অবস্থান জানালেন। সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তিনি বিসিবির নির্বাচনী কার্যক্রম খুব বেশি অনুসরণ করেননি। তবে তার প্রত্যাশা, যারা বোর্ডে নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা যেন দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করেন। তার ভাষায়, “আমি অত কিছু ফলো করিনি। আশা থাকবে, যারা আসবে, তারা বিসিবির ভালোর জন্য কাজ করবে। সবার প্রতি শুভকামনা।”

সাকিবের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন জাতীয় দলের সাবেক আরেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বিসিবির নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন। তামিমের এই অবস্থান ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে গভীর আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আর একই প্রশ্ন সাকিবের কাছে করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। তার ভাষায়, “নির্বাচনের খবর খুব একটা দেখা বা পড়া হয় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার জন্য বলা কঠিন আসলে কী হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই ভালো। যেটা জানি না, সেখানে কিছু বলা ঠিক হবে না।”

এমন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, সাকিব নিজেকে সরাসরি কোনো বিতর্কিত আলোচনায় জড়াতে চান না। ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় থাকা সাকিব বহুবার বিতর্কিত ঘটনার কেন্দ্রে থেকেছেন। তাই হয়তো এবার তিনি নিজেকে নিরাপদ রাখতেই সচেষ্ট। তবে বিষয়টি এখানেই থেমে নেই।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিব আল হাসান এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মধ্যে একপ্রকার ভার্চুয়াল লড়াই শুরু হয়, যা সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করেছে। এর সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। ওইদিন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে নিজের সঙ্গে তোলা একটি পুরোনো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন সাকিব। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “শুভ জন্মদিন, আপা।” এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পোস্টটি দেখেই প্রতিক্রিয়া জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি ফেসবুকে লিখেন, “একজনকে পুনর্বাসন না করায় সহস্র গালি দিয়েছেন আপনারা আমাকে। বাট আই ওয়াজ রাইট। ইন্ড অব দ্য ডিসকাশন।” স্পষ্টতই এই ইঙ্গিত ছিল সাকিবকে ঘিরে তার আগের অবস্থানের প্রতিফলন। জবাবে সাকিবও চুপ থাকেননি। তিনি লিখেন, “যাক শেষমেশ কেউ একজন স্বীকার করে নিলেন যে তাঁর জন্য আমার আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেওয়া হলো না, বাংলাদেশের জন্য খেলতে পারলাম না!”

ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন বিকেলে ফের প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি সাকিবকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “ভাইয়া, আমাকে জোর করে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু নির্বাচনটাই করেছিলাম, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতিতে জড়িত হইনি। ইউ নো হু। যার হাত ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত, তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বোর্ডের কর্তারা একাধিকবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতে বললেও তা না করে বরং খুনিদের এনডোর্স করা ছাড়াও শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, মানি লন্ডারিং, ফিন্যান্সিয়াল ফ্রড করা কাউকে কেন শুধু ভালো ক্রিকেটার বলেই পুনর্বাসন করতে হবে? আইন সবার জন্য সমান, ফেস ইট।”

এই ভার্চুয়াল দ্বন্দ্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। অনেকেই মন্তব্য করেন, দেশের ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে এমন প্রকাশ্য বিরোধ দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সাকিবের পোস্ট ছিল ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ, সেটিকে রাজনৈতিকভাবে টেনে আনা অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সমর্থকরা আবারও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ সাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কেউ বা আসিফ মাহমুদের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে যখন সাকিবের কাছে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হয়, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কথা বলে কী হবে? ক্রিকেটেই থাকি।” এতে বোঝা যায়, তিনি আর কোনো নতুন বিতর্কে জড়াতে চান না এবং নিজের মনোযোগকে ক্রিকেটকেন্দ্রিক রাখতে চান।

তবে সাকিবকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় সাকিব দেশের বাইরে ছিলেন। এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

বিসিবির নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গন যেমন উত্তপ্ত, তেমনি সাকিবের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোও আবারও প্রমাণ করছে, তিনি এখনো বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। তবে তার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি আর কোনো রাজনৈতিক প্রশ্নে জড়াতে চান না। বরং তিনি চান, বিসিবির নির্বাচনে যারা আসবেন, তারা যেন দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় তিনি শুধু ক্রিকেটার নন, বরং রাজনৈতিক আলোচনার অংশও হয়ে গেছেন। বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে তার সতর্ক মন্তব্য হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়নি, কিন্তু এটুকু প্রমাণ করেছে, সাকিব এখন অনেক বেশি সচেতন হয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত