প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানী ঢাকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও শিল্প সমৃদ্ধ জেলা পাবনার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। এই সফরের নেতৃত্বে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এছাড়া, প্রতিনিধিদলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার সকালে তারা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সফরের পূর্বে, পাবনার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাবনা জেলা প্রশাসকও উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিন পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার সঙ্গে পাবনার যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি করা, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস করা এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা যাচাই করা। বিশেষভাবে, ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর সম্ভাব্যতা, ফেরিপথের দূরত্ব হ্রাস এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক চালুর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক জানান, পাবনা সফরের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন করা, যা যাত্রা সময় কমাতে এবং জ্বালানি ব্যয় হ্রাস করতে সহায়ক হবে। এছাড়াও, খাসচরে ফেরিঘাট স্থানান্তরের মাধ্যমে ফেরি পথের দূরত্ব হ্রাস এবং অন্যান্য সংযোগ সড়ক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, পাবনা থেকে ঢাকার রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঢালার চর থেকে রাজবাড়ী হয়ে পদ্মা রেলসেতুর সংযোগের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, পাবনা জেলা বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা এবং ওষুধ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই রাজধানী ও পাবনার মধ্যে আধুনিক ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সফর পাবনা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।
পরিদর্শনের সময় দলের সদস্যরা পাবনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, যেখানে সম্ভাব্য রেল লাইন, সড়ক সংযোগ এবং ফেরি পথ উন্নয়নের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, বর্তমান সড়ক ও রেল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া যাচাই করা হয়েছে, যাতে ঢাকা-পাবনা যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করা যায়।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সাংবাদিকদের জানান, পাবনার সঙ্গে ঢাকা রেল এবং সড়ক যোগাযোগ আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি এবং জেলা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও তারা উল্লেখ করেছেন, খাসচরে ফেরিঘাট স্থানান্তর এবং নতুন সড়ক সংযোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় এবং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে পাবনা থেকে ঢাকার যাত্রা আরও দ্রুত এবং নিরাপদ হবে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, পাবনা জেলা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা এবং ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সেক্ষেত্রে, রাজধানীর সঙ্গে সুষ্ঠু ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দেশের জন্য একটি বিশাল উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ। এই সফর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর উভয় সচিব জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাবনা সফরের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদারকি করবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই পদক্ষেপ পাবনা-ঢাকা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, নির্ভরযোগ্য এবং জনমুখী করে তুলবে।
সর্বশেষে শিমুল বিশ্বাস সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পাবনার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার উন্নত ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে, ঢাকা-পাবনা রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশজুড়ে যাতায়াতের গতি বৃদ্ধি, সময় এবং খরচ কমানো, ও পাবনার অর্থনৈতিক এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সরকারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দলের এই সরেজমিন পরিদর্শন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।










