প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশি আলোকচিত্রী, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা এবং সমাজকর্মী শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি মানবিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই পদক্ষেপকে কেবল একটি মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও সংহতির এক দৃপ্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, শহিদুল আলমের সাহসী এই যাত্রা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকের গর্জন এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক।
শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান শহিদুল আলমকে প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন এই দেশের মানুষ কোনো সময় অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তারেকের মতে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির উদ্যোগ নয়, বরং একটি জাতির নৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার সাহসী প্রয়াস।
শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। গাজায় চলমান সংঘাত এবং সেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে তার এই পদক্ষেপ বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের জন্য বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনের প্রতীক।
তারেক রহমান তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সবসময় শহিদুল আলমের মতো সাহসী কণ্ঠের পাশে থাকবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেবে। এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, বিএনপি অতীতেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে সমর্থন জানিয়েছে, তবে এবার দলের শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে বিশেষভাবে প্রশংসা করা এক ভিন্ন মাত্রার প্রতিফলন বলে অনেকে মনে করছেন।
শহিদুল আলমের যাত্রা এবং তার কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানোর প্রতীকী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শহিদুলের এই উদ্যোগ স্থান পেয়েছে এবং তার সাহসিকতাকে মানবিক কূটনীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনের জন্য বিশ্বজুড়ে যখন সংহতির আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও সামাজিক কর্মীর এই যাত্রা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি যেমন মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক অবস্থানকেও প্রতিফলিত করে।
অন্যদিকে, সমালোচক মহলের মতে, শহিদুল আলমের এই পদক্ষেপ নিছক মানবিক উদ্যোগ হলেও এর রাজনৈতিক অভিঘাতও রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধী দল বিএনপি ফিলিস্তিন ইস্যুকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী জনমতকে আরও তীব্র করতে পারে। ফলে তারেক রহমানের প্রশংসামূলক বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গাজায় চলমান সংঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের অংশ হিসেবে শহিদুল আলমের মতো মানুষের সরব উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।
বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশটি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে সমর্থন করে আসছে। বিভিন্ন সরকার এই অবস্থান ধরে রেখেছে, যদিও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা কখনো দৃশ্যমানভাবে উচ্চারিত হয়েছে, আবার কখনো তুলনামূলকভাবে নিস্তেজ থেকেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি আবেগ ও সমর্থন সবসময়ই প্রবল ছিল। শহিদুল আলমের উদ্যোগ সেই আবেগকেই নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
তারেক রহমানের বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থকরা এটি দলীয় অবস্থানের দৃঢ় প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কিছু মহল মনে করছে, এ ধরনের প্রশংসা সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে যাতে তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরও দৃঢ় ও প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিলিস্তিন ইস্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি একটি নৈতিক ও মানবিক প্রশ্ন হিসেবে সবসময় আলোচনায় থাকবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এটি একটি সুযোগ হতে পারে, যদি সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষ একই অবস্থানে দাঁড়ায়।
শহিদুল আলমের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের জন্য এক গর্বের বিষয়। তিনি শুধু একজন আলোকচিত্রী নন, বরং তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন। তার এই যাত্রা হয়তো গাজার বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে না, কিন্তু নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক দৃপ্ত বার্তা হয়ে থাকবে।
তারেক রহমানের প্রশংসা সেই বার্তাকে আরও উচ্চকিত করেছে। বিএনপি নেতা যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি নিছক সংহতির প্রকাশ নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকের গর্জন। বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, এ দেশের মানুষ ন্যায় ও সত্যের জন্য লড়াই করতে পিছপা হয় না। শহিদুল আলমের উদ্যোগ এবং তারেক রহমানের প্রশংসা সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।