বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে কটাক্ষের শিকার ইয়াশ, পাশে সুনেরাহ–মেহজাবীনরা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫১ বার
বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে কটাক্ষের শিকার ইয়াশ, পাশে সুনেরাহ–মেহজাবীনরা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়লেন জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা ইয়াশ রোহান। তবে এই সমালোচনার ঝড় সামলাতে তাঁকে একা দাঁড়াতে হয়নি। দেশের নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা যেমন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারীরাও তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ঘৃণার বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছেন।

গত বৃহস্পতিবার ইয়াশ রোহান তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইলে দুর্গাপ্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা।” শুভেচ্ছাবার্তাটি সাধারণ হলেও, পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কিছু ব্যবহারকারী সেখানে নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ কেউ সরাসরি কটূক্তি করেন। এ ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে সহশিল্পী মেহজাবীন চৌধুরী নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, “কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা বা ভুয়া প্রোফাইল থেকে স্ল্যাং ব্যবহার করা কোনো সাহসের পরিচয় নয়। বরং তা মানুষের নীচ মানসিকতার প্রতিফলন। এত ঘৃণা নিয়ে কেউ কীভাবে বাঁচে, সেটা ভাবতেই অবাক লাগে।” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এতে সমর্থন জানিয়ে ইয়াশের পাশে দাঁড়ান।

অভিনেতা আরশ খান লিখেছেন, “ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতাদের একজন। তাঁর পরিচয় শিল্পীসত্তা দিয়েই, ধর্ম বা অঞ্চল দিয়ে নয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ সবার। শিল্পকলা কোনো ধর্ম মানে না, শিল্পীও মানেন না।”

এ ছাড়া অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল, অভিনেতা রওনক হাসান, নির্মাতা শিহাব শাহীনসহ আরও অনেক শিল্পী প্রকাশ্যে ইয়াশের প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ সমাজকে বিভক্ত করছে এবং শিল্পীদের কাজকে হেয় করার চেষ্টা করছে।

শুধু শিল্পীরা নয়, ভক্তরাও ইয়াশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। একজন ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “কমেন্টগুলো পড়ে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আমরা মানুষকে ধর্ম দিয়ে বিচার করব কেন? কাজ ও মানবিকতাই মানুষের আসল পরিচয় হওয়া উচিত।” আরেকজন লিখেছেন, “এসব মন্তব্যে কষ্ট পাবেন না ভাই। আমরা চাই, আপনার কাজ দিয়ে আপনাকে বিচার করা হোক, ধর্ম দিয়ে নয়।”

ফেসবুকের প্রতিক্রিয়ায়ও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত ইয়াশের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানায় ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। ১৬ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়ে পোস্টটিতে, আর প্রায় ২ হাজার ৭ শত বার সেটি শেয়ার করা হয়। অর্থাৎ নেতিবাচক মন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন এবং ঘৃণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে জনসম্মুখে থাকা ব্যক্তিদের পোস্টে তা বেশি দেখা যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভুয়া প্রোফাইল, ব্যক্তিগত হতাশা ও অসহিষ্ণুতাই এর পেছনে বড় কারণ। আবার অনেক সময় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

ইয়াশ রোহানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান ইয়াশ রোহান গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত স্বপ্নজাল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটান। এরপর থেকে একের পর এক নাটক, টেলিফিল্ম ও সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দ্রুত আলোচনায় আসেন। তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা শুধু দর্শকই নয়, সমালোচকদের কাছ থেকেও এসেছে।

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে বিতর্ক ও সমালোচনা। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ধরনের কটূক্তি আসলে শিল্পীদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও সামাজিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। কেউ ধর্মের দোহাই দিয়ে সমালোচনা করেন, আবার কেউ শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে পেশাকে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু শিল্পের কাজ সমাজকে বিনোদন ও চিন্তার খোরাক দেওয়ার জন্য, তা কোনোভাবেই ধর্মীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারযোগ্য নয়।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা বলছেন, শিল্পীদের স্বাধীনভাবে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। বিশেষত উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করা একটি মানবিক আচরণ, যা সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়। সেখানে ঘৃণার জায়গা থাকা উচিত নয়। এ ধরনের ঘৃণা শুধু শিল্পী নয়, পুরো সমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিতর্ক থেকে আবারও স্পষ্ট হলো, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এখনো সহনশীলতা ও বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার পথটি দীর্ঘ। তবে ইয়াশ রোহানকে কেন্দ্র করে যেভাবে সহশিল্পী ও ভক্তরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন, তা এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি বোঝায়, ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসা ও সমর্থনের শক্তি অনেক বেশি।

ইয়াশ নিজে এ ঘটনায় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তাঁর সহশিল্পী ও ভক্তদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই একা নয়। শিল্প ও সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য যেমন শিল্পীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও দাঁড়াচ্ছে মানবিকতার পক্ষে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত