আফগানদের বিপক্ষে কখনো যা করতে পারেনি, আজ তাই করতে চায় বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
লিটন দাসের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ধরনের মানসিক বাধার মধ্যে আছে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানরা বরাবরই এক ধরনের ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের স্পিন আক্রমণ, বিশেষ করে রশিদ খান ও মুজিব উর রহমানের মতো বোলারদের ঘূর্ণির জালে বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে টাইগাররা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় দলের বিপক্ষে দাপট দেখালেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ এখনো অনেকটা সংগ্রামী অবস্থায়। তাই আজকের ম্যাচটি শুধু একটি দ্বৈরথ নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের মঞ্চও বটে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থকরা ভালোভাবেই জানেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ কাজ নয়। দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস প্রমাণ করে, আফগানরা অনেক সময় এগিয়ে থেকেছে এবং বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে দ্বিধা করেনি। তবে একইসঙ্গে এটিও সত্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ দলও পাল্টে গেছে। অভিজ্ঞতার ভান্ডার বেড়েছে, নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা উঠে এসেছে, আর খেলার কৌশলেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। এই প্রেক্ষাপটেই আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ চাইছে সেই দেয়াল ভেঙে ইতিহাস গড়তে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশ কিছু দারুণ সাফল্যের গল্প লেখা হয়েছে। ইংল্যান্ড, ভারত কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য জয় এসেছে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখনও কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। আফগানদের ঘূর্ণি বোলিং এবং মাঝে মাঝে ব্যাটিং ঝড় থামাতে পারেনি টাইগাররা। এমনকি ঘরের মাঠেও আফগানিস্তান বেশ কয়েকবার জয় তুলে নিয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কষ্ট দিয়েছে।

তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশ দল আসরে ভালো ছন্দে আছে, ব্যাটিং অর্ডার তুলনামূলক স্থিতিশীল এবং পেস বোলিং আক্রমণেও এসেছে বৈচিত্র্য। তরুণ পেসারদের সঙ্গে অভিজ্ঞ বোলাররা রয়েছেন যারা চাপ সামলাতে পারেন। সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ব্যাটিং ইউনিটে ধারাবাহিকতা। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানরা সেট হয়ে গেলে আফগানদের ঘূর্ণি সামলানো সহজ হয়—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশ আজ মাঠে নামবে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, আফগানিস্তানকে হারানো এখন শুধু লক্ষ্য নয়, বরং একটি চ্যালেঞ্জ, যা দল হিসেবে সবাই নিতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমরা তাদের সম্মান করি। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমাদেরও জেতার মতো পরিকল্পনা আছে। আগের ভুল থেকে শিখেছি, আজকের ম্যাচে আমরা সেসব কাজে লাগাতে চাই।”

অন্যদিকে আফগান শিবিরও সমান আত্মবিশ্বাসী। তারা জানে, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের অতীত রেকর্ড ভালো, তাই মানসিকভাবে তারা এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উন্নত পারফরম্যান্সকেও ছোট করে দেখছে না তারা। ফলে ম্যাচটি হবে সমানে-সমান লড়াইয়ের।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন দলের সামনে ছিল ‘কখনো না পারা’ কিছু অর্জনের সুযোগ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কিংবা ইংল্যান্ডের মতো দলকে চ্যালেঞ্জ করার দিনগুলো তারই প্রমাণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হয়তো সেইরকম একটি অধ্যায় যোগ করার সময় এসেছে। আজকের ম্যাচে যদি বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত জয় পায়, তবে তা শুধু একটি জয় হবে না—বরং মানসিক বাঁধা ভাঙার প্রতীক হয়ে থাকবে।

খেলার দিনে ভক্তরা যেমন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, তেমনি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও নজর রাখছেন এই দ্বৈরথে। কারণ এখানে শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে—বাংলাদেশ কি অবশেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ছায়া ভাঙতে পারবে?

আজকের ম্যাচ তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় পরীক্ষা। জয় আসুক বা না আসুক, এই ম্যাচ প্রমাণ করবে দলটি কতটা প্রস্তুত ভবিষ্যতের জন্য। তবে সমর্থকদের আশা, লড়াইয়ের দিনেই ভাঙুক সেই অভিশাপ, যা এতদিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়কে করেছে দুরূহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত