প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইসরাইলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরেছেন খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম। দীর্ঘ দিন ধরে মানবাধিকার, সমাজ ও গণমাধ্যমের জগতে কাজ করা এই ব্যক্তির মুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে মানুষের নজর কেড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার ভোরে, যখন ফ্রিডম ফ্লোটিলার ‘কনশানস’ জাহাজের সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ক্রু সদস্যদের সঙ্গে শহিদুল আলমকেও ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে। এরপর থেকে তিনি বন্দিদশায় ছিলেন। বন্দিত্বের সময় তার পরিবারের পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তার মুক্তির দাবি জানিয়ে অনড় ছিলেন। মুক্তি সংক্রান্ত প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক স্তরে জোরদার হয়।
আজ বিকেলে, তুরস্ক থেকে প্রেরিত একটি ফ্লাইটে শহিদুল আলমের নাম উঠেছে যাত্রী তালিকায়। তুরস্কের সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় ইস্তাম্বুলে অবতরণ করবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “ইসরাইল থেকে একটি ফ্লাইট ছেড়েছে, যার যাত্রী তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম।”
শহিদুল আলমের মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শহিদুল আলমের মুক্তি ও দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় তুরস্কের অবদান অবিস্মরণীয়।”
শহিদুল আলম বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে বহুল পরিচিত নাম। সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশের সাম্য ও মানবাধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই মুহূর্তে তার মুক্তি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত মুক্তি নয়, এটি মানবাধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের জয়ের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হচ্ছে।
বন্দিত্বকালে শহিদুল আলমের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় জোরালোভাবে আন্দোলন চালায়। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য প্রচারণা চালানো হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শহিদুল আলমের মুক্তি কেবল একটি ব্যক্তির নয়, বরং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। ইসরাইলি বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শক্ত একটি বার্তা যায় যে, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ে যেতে হবে।
শহিদুল আলমের মুক্তি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও আশা জাগিয়েছে। মুক্তির খবরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাকে স্বাগত জানিয়ে তার সাহসিকতা ও মানবাধিকার লড়াইয়ের প্রশংসা করছেন। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, তার মুক্তি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংহতির ফল।
এদিকে, এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে— মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি অপরিহার্য। শহিদুল আলমের মুক্তি শুধুমাত্র তার নিজস্ব মুক্তি নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার আন্দোলনের একটি শক্তিশালী জয়।
শহিদুল আলম দেশে ফিরে তার পরিবারের সঙ্গে আবার মিলিত হবেন এবং শীঘ্রই সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার কার্যক্রমে ফের সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তার মুক্তি বিশ্বে অন্য সংগ্রামীদেরও অনুপ্রাণিত করবে, যারা স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
শহিদুল আলমের মুক্তি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, মানবাধিকার আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত হবে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, একতার শক্তি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।