প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন জারির মুহূর্ত থেকেই দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারবেন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব।
এহছানুল হক একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আমলা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থানের কারণে সরকারি অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে। সর্বশেষ তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে মো. এহছানুল হকের নেতৃত্বে বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, যার মধ্যে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন, মহাসড়ক সংস্কার ও যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম প্রবর্তনের মতো পদক্ষেপ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার দায়িত্বকালেই সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভিশনের অংশ হিসেবে নতুন নীতিমালা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়, যা সরকারি মহলে প্রশংসিত হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মন্ত্রণালয়ই সরকারি প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি—দেশের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকের উপস্থিতি সরকারের কাজের গতি ও মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়। তার বদলির পর থেকে মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি টানা ২১ দিন ধরে শূন্য ছিল। এ সময় প্রশাসনের ভেতরে নতুন নিয়োগ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে আজ সরকার সেই শূন্যস্থান পূরণ করল অভিজ্ঞ প্রশাসক এহছানুল হককে নিয়োগের মাধ্যমে।
প্রশাসনিক মহলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এহছানুল হকের দায়িত্ব গ্রহণে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরবে। তিনি সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পরিকল্পনা—বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া, এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালার বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে প্রশাসন কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা, এবং কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মতো নতুন ধারাগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এহছানুল হকের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার উপস্থিতি সরকারের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও গতিশীল করবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
একজন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মীদের কাছে এহছানুল হক সবসময় প্রশংসিত। তিনি মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো ভালোভাবে বোঝেন। তার নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় আরও কার্যকর ও জনমুখী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই নতুন সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এহছানুল হক। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরই মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চলমান সংস্কার পরিকল্পনা ও নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সবসময়ই সরকারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তাই এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ ও সক্ষম কর্মকর্তা নিয়োগ সরকার ও প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মো. এহছানুল হকের নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ হলো, একই সঙ্গে প্রশাসনিক নেতৃত্বে আসছে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত—যেখানে দক্ষতা, সেবা ও স্বচ্ছতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।