দলছুট বানর শিকলবন্দি করে বাড়িতে রাখা, বিক্রির দাম ১২ হাজার টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১ বার
দলছুট বানর শিকলবন্দি করে বাড়িতে রাখা, বিক্রির দাম ১২ হাজার টাকা

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় শিকলবন্দি অবস্থায় এক বানর দেখা যাওয়ায় স্থানীয় ও বন বিভাগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বানরটি গলায় লোহার শিকল দিয়ে একটি বাড়ির পাশে বাঁধা অবস্থায় ছটফট করছিল। বানরটির কপালে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, বানরটি একটি কলা খেয়ে খাওয়া শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, বানরটির মালিক আবেদ আলী, যিনি আক্কেলপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। দুই সপ্তাহ ধরে তিনি বানরটিকে নিজের বাড়িতে শিকল দিয়ে রেখেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বানরটি দুই সপ্তাহ আগে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ছাদে উপস্থিত হয়েছিল। তখন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা তাকে কলা ও পাউরুটি খাওয়াতেন। দু–তিন দিন বানরটি উপজেলা পরিষদের ভবন, গাছ ও মাঠে ঘোরাঘুরি করেছিল।

উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারী দিপু জানান, বানরটি ইউএনও কার্যালয়ের ছাদে ঘোরাঘুরি করছিল। তাঁরা বানরটিকে কলা খাওয়ান এবং দু–তিন দিন তাকে পরিষদের এলাকায় দেখভাল করা হয়। পরে জানা যায়, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবেদ আলী কৌশলে বানরটিকে ধরে নিয়ে যান।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করার সময় সাংবাদিকরা আবেদ আলীর সঙ্গে বানরটির বিষয়ে কথা বলেন। আবেদ আলী জানান, বানরটির খাবারের জন্য প্রতিদিন তিনি প্রায় ১০০ টাকা খরচ করছেন। তিনি বলেন, “আমি বানর পালার জন্য ধরেছি; বিক্রি করব না। ১০–১২ দিন আগে বানরটি উপজেলা পরিষদে কলা খাচ্ছিল। ধরার সময় বানরটি গ্রিলের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তাই কপালে আঘাত লেগেছে।” তবে তিনি এক পর্যায়ে বানরটি ১২ হাজার টাকায় বিক্রির কথাও উল্লেখ করেন।

জয়পুরহাট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কামরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “বন্য প্রাণী আটকে রাখা অপরাধ। বানরটি শিকল পরিয়ে আটকে রাখার বিষয়টি আমি জানতে পারিনি। বন বিভাগ প্রাণীটিকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করবে। বিষয়টি আক্কেলপুর উপজেলা বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, বানরটি ছেলেমানুষ এবং মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠার কারণে শিকলবন্দি রাখা হয়েছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, এটি এক ধরনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়। বানরটির সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ও অনলাইনে মানুষজন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অনেকে বন বিভাগের তৎপরতা ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও তরুণরা বন ও প্রকৃতির প্রতি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী কোনোভাবেই মানুষের বিনোদন বা পোষা প্রাণী হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

বানরটির শিকলবন্দি থাকার ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়ে মানবিক ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বন বিভাগের ব্যবস্থা ও সচেতনতা বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সময়ে বানরটি নিরাপদে পুনর্বাসিত হবে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে জীবন যাপন করতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত