নানা-নানি অসুস্থ নাতনিকে দেখতে যাওয়ার পথে বাসচাপায় নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১ বার
নানা-নানি অসুস্থ নাতনিকে দেখতে যাওয়ার পথে বাসচাপায় নিহত

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারটির আরও দুই সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইউটার্নে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দম্পতি হলেন আলনা বেগম (৫০) এবং তাঁর স্বামী বিল্লাল হোসেন (৬৫)। আহত হয়েছেন ওই দম্পতির পুত্রবধূ অঞ্জনা (২৩), নাতনি আনিশা (৪) এবং অটোরিকশার চালক। হতাহত সকলেই কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার দড়ি লুটেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

নিহত আলনা বেগমের মামা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গুরুতর অবস্থায় পরিবারের সকলকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথেই বিল্লাল হোসেন ও আলনা বেগম মারা যান। অন্যদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের আরও দুই সদস্যকে নিয়ে অসুস্থ নাতনিকে দেখতে যাচ্ছিলেন। তারা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগে মহাসড়কের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউটার্ন নিচ্ছিলেন। তখন চাঁদপুরের মতলব থেকে ঢাকাগামী মতলব পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক, বিল্লাল হোসেন ও আলনা বেগমসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। পথে বেলা ১১টার দিকে আলনা বেগম এবং বিল্লাল হোসেন মারা যান। স্থানীয়রা বাসের চালক কাউসার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “সকালেই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস এবং অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। চালককে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনার সময় দুর্গম সড়ক এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার অনিয়ম দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিরাপদ চলাচলের নিয়ম না মানা এবং মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অভাবও এই রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী।

এই দুর্ঘটনা কেবল পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষকে শোকাহত করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, “নাতনিকে দেখতে যাওয়ার পথে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ভীষণভাবে আমাদের ধাক্কা দিয়েছে। আশা করছি আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে।”

স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছেন। বনাম দুর্ঘটনার প্রকৃতি, গাড়ি ও চালকের নিরাপত্তা বিষয়ক তদন্তও শুরু হয়েছে। জনগণ আশা করছে, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

মুন্সিগঞ্জের এই দুর্ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা এবং পথচারী ও যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়ে আবারও সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত