সিলেট-হবিগঞ্জ রুটে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে এসি বাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭২ বার
সিলেট-হবিগঞ্জ রুটে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে এসি বাস

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫।  একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেট-হবিগঞ্জ রুটের নিয়মিত যাত্রীদের জন্য আসছে এক নতুন স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো এই রুটে চালু হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস সার্ভিস। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের উদ্যোগে আধুনিক এই সার্ভিস প্রাথমিকভাবে চারটি বাস দিয়ে চালু করা হবে। যাত্রী চাহিদা ও প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তীতে বাসের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন—যাদের বড় অংশই সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী। তারা প্রতিনিয়ত যানজট, অস্বস্তিকর যাত্রা ও দুর্বল সেবার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাই আরামদায়ক, নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মাসে সংগঠনের এক বৈঠকে এসি বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে হবিগঞ্জ-সিলেট বাইপাস এবং হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে প্রতিদিন প্রায় ১১৫টি বাস চলাচল করে। এসব বাসে প্রতিদিন গড়ে আট হাজারেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে অনেক যাত্রী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন—বেশিরভাগ বাসেই নেই পর্যাপ্ত আরাম, আসনগুলো পুরনো, সেবার মান নিম্নমানের, এমনকি অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রী তুলেও চালানো হয়। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও নারী যাত্রীদের জন্য যাত্রা হয়ে ওঠে কষ্টকর।

এ অবস্থায় নতুন এসি সার্ভিস চালুর খবরটি যাত্রীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রী নাজমা পারভীন বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যেতে খুব কষ্ট হয়, বিশেষ করে গরমে। যদি এসি বাস নিয়মিত চলে, তাহলে অন্তত যাত্রাটা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে।” একই অভিমত ব্যক্ত করেন সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ। তার ভাষায়, “আমরা যারা প্রতিদিন সিলেট যাই, তাদের জন্য এটা খুব দরকার ছিল। আশা করি, সার্ভিসটা মানসম্মত হবে।”

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা গত এক বছর ধরে চলছিল। তিনি বলেন, “এখন যে কয়টি স্পেশাল বাস চলছে, যাত্রীদের আগ্রহ দেখে বোঝা যায় এসি সার্ভিস সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে সংগঠনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চারটি বাস দিয়ে শুরু করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা যেন তাদের প্রতিদিনের যাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য পান। এজন্যই সময়সূচিও এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে সকালে হবিগঞ্জ থেকে এবং বিকেলে সিলেট থেকে বাস ছাড়ে। এতে অফিস টাইমে যাত্রীদের সুবিধা হবে।”

বিআরটিসির সঙ্গে পরামর্শ করে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা ভাড়া নির্ধারণে যাত্রী স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করলেও যেন ভাড়া সাধ্যের মধ্যে থাকে, সেটা দেখব।”

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সদস্যরা মনে করছেন, এই সার্ভিস সফলভাবে চালু হলে তা শুধু যাত্রীসেবা নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন বাস সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবহন খাতে বাড়বে প্রতিযোগিতা, উন্নত হবে সার্ভিস কোয়ালিটি, আর মানুষ পাবেন যাতায়াতের নতুন অভিজ্ঞতা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের এক সদস্য বলেন, “অফিস টাইমে নির্ভরযোগ্য বাস সার্ভিস না থাকায় অনেক সময় ব্যবসায়িক যোগাযোগে সমস্যা হয়। যদি এই সার্ভিসটি নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠভাবে চলে, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নতুন এসি বাসগুলোতে থাকবে আধুনিক আসনব্যবস্থা, পর্যাপ্ত লেগ স্পেস, উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সার্ভিস সফল হলে ভবিষ্যতে এই রুটে আরও আধুনিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই এই এসি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন হবে। এর মাধ্যমে সিলেট-হবিগঞ্জ রুটের যাত্রীদের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে—যেখানে যাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, বরং এক আরামদায়ক অভিজ্ঞতাও হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত