হবিগঞ্জে জামায়াত নেতার হত্যার অভিযোগে ১৪ জনের আজীবন কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার
হবিগঞ্জে জামায়াত নেতার হত্যার অভিযোগে ১৪ জনের আজীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

হবিগঞ্জে জামায়াত নেতা মহিবুর রহমান চৌধুরী হত্যা মামলায় আদালত ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি শফিকুল আলম চৌধুরীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক সৈয়দ মো. কায়সার মোশারফ ইউসুফ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, মামলার প্রধান আসামি শফিকুল আলম চৌধুরীকে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, বাকিদের মধ্যে ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এছাড়া বিচার চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় তিন জনকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আদালতের প্রাঙ্গণে উত্তেজনা দেখা দেয়। রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বাদিপক্ষের কয়েকজন আসামিদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে সদর মডেল থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম শাহাবুদ্দিন শাহিন জানান, পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গুলজার খান বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে এই রায়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট। এটি ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জামায়াত নেতা মহিবুর রহমান চৌধুরীকে ২০১৩ সালের ১৭ জুন রাতে শহরের পুরানমুন্সেফি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় তার বড়ভাই মুজিবুর রহমান চৌধুরী বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সাজিদুর রহমান মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক আজ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের ভয়ঙ্করতা ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোক ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা আরও জোরদার করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চেয়েছেন এবং আজকের রায় তা কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করেছে।

এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষও আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে আদালত প্রাঙ্গণে বিরাজমান উত্তেজনা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা এই ধরনের সংবেদনশীল মামলার জটিলতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

মামলার প্রধান আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডের মাধ্যমে হাইকোর্ট একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডে দোষীরা বঞ্চিত হবেন না এবং ন্যায়বিচার কার্যকরভাবে কার্যকর হবে। আদালতের এই রায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ড এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসনের গুরুত্বকেও আবার সামনে এনেছে। স্থানীয় মানুষের আশা, আগামীদিনে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে এবং অপরাধীদের সঠিকভাবে দণ্ডিত করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত