ফুটবল অঙ্গনে তাবিথ আউয়ালের পদক্ষেপ: সালাউদ্দিন-কিরনকে নিয়ে রহস্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫০ বার
ফুটবল অঙ্গনে তাবিথ আউয়ালের পদক্ষেপ: সালাউদ্দিন-কিরনকে নিয়ে রহস্য

প্রকাশ: ১৪ই অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের মুখ্য চরিত্র কাজী সালাউদ্দিন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাহফুজা আক্তার কিরনের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বর্তমান সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের ভূমিকা দেশজুড়ে এক তীব্র রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। গত ২১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদন উত্থাপন এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ক্রীড়া পরিমণ্ডল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় ছড়িয়ে পড়েছে।

এই আবেদন এবং তার সফল বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বাধিক আলোচিত প্রশ্নটি হলো, তাবিথ আউয়াল কোন নৈতিক, আইনি বা প্রশাসনিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ফুটবলের সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধনকারী হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পক্ষে এমন জোরালো ভূমিকা রাখলেন। কাজী সালাউদ্দিন সম্পর্কে দেশের ফুটবলপ্রেমী মহলে বহুলভাবে প্রচলিত রয়েছে যে, তিনি বাফুফে কেন্দ্রীক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের গুরু। তার আমলে ফুটবল পরিচালনা সংস্থাটি কীভাবে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আখড়ায় পরিণত হয়েছিল, সে বিষয়ে অসংখ্য গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও জনসমক্ষে আলোচনা হয়েছে। এমন একটি ভারী বোঝা বহনকারী ব্যক্তির জন্য একজন রাজনৈতিক নেতার এভাবে এগিয়ে আসাকে অনেক বিশ্লেষকই ‘নৈতিক দ্বিচারিতা’ ও ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

গত ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পর থেকে কাজী সালাউদ্দিন ও মাহফুজা আক্তার কিরন কার্যত দেশ ছাড়তে অক্ষম ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে তারা কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে পারেন, তার নানা পথ খুঁজছিলেন। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে তাবিথ আউয়ালের হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সাড়া দেওয়াকে একটি সুপরিকল্পিত ও ‘ম্যানেজড’ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। প্রশ্ন উঠেছে, এই আবেদনের পেছনে কি কোনো অদৃশ্য রাজনৈতিক সমঝোতা বা লেনদেন কাজ করছে? নাকি ক্ষমতার কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু মহল তাদের প্রভাব খাটিয়েছে?

এই ঘটনাটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দেশত্যাগের কুখ্যাত ঘটনার প্রেক্ষিতে। পাপন যেমন দুর্নীতির অভিযোগের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন, তেমনই একটি পথ যেন সালাউদ্দিন ও কিরনের জন্যও উন্মুক্ত না হয়ে যায়, সে বিষয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এই শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই।

এ অবস্থায়, ফুটবলপ্রেমী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তাদের যুক্তি হলো, ফুটবলসহ যে কোনো ক্রীড়া সংস্থার পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে তাদের জন্য কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া বা সুবিধা তৈরি করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। এটি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা পাঠাবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যতকে আরও অনিশ্চিত ও অন্ধকারময় করে তুলবে।

সর্বোপরি, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ক্রীড়া পরিচালনা ও রাজনীতির মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত এক জটিল ও অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ককেও উন্মোচিত করেছে। একটি দেশের ফুটবল যখন নিয়মতান্ত্রিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, তখন এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের জন্য উচ্চপর্যায় থেকে এমন আবেদন ও সাড়া দেওয়া রীতিমতো দেশের ক্রীড়াভক্তদের জন্য এক মর্মান্তিক পরিহাসের নামান্তর। তাই, এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি আজ শুধু ফুটবলপ্রেমী নয়, দেশের সকল নাগরিকের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত