প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন কেবল আইটি বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি মানুষের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, কারণ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাইবার আক্রমণ এবং ঝুঁকির ঘটনা অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিমান চলাচল খাতের প্রতিটি সদস্যকে সাইবার নিরাপত্তা রক্ষা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
মঙ্গলবার বেবিচকের ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) বিভাগের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “বিমান চলাচল একটি বৈশ্বিক খাত, যেখানে এক দেশের কার্যক্রম সরাসরি অন্য দেশের সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে সাইবার আক্রমণ ঘটলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পড়তে পারে। এটি এখন সময়ের দাবি যে সাইবার নিরাপত্তা সকলের জন্য অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। মৌলিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলা এবং নিয়মিত সতর্কতা অবলম্বন করলেই একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অনলাইন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি ব্যবহারকারীর দায়িত্ব, বিশেষ করে যখন এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত, যেমন বিমান চলাচল।
চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “বেবিচক বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের উদ্যোগ হল, যাতে অনলাইন খাতের ঝুঁকি সনাক্ত করা যায় এবং সেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং আমাদের সবার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
সেমিনারে বেবিচকের কর্মকর্তারা জানায়, সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং হ্যাকিং, ফিশিং, ম্যালওয়্যার আক্রমণসহ নানা ঝুঁকির কারণে সচেতনতা তৈরি করা অপরিহার্য। এ ধরনের ঝুঁকিতে বিমানের সিস্টেম বা যাত্রী সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হলে তা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, পুরো বিমান চলাচল খাতের জন্য গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
আইটি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত তথ্য, সংস্থাগত নেটওয়ার্ক এবং ভোগ্যসামগ্রী সংরক্ষণে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ফিশিং সংক্রান্ত সতর্কতা এবং সাইবার হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্তকরণ প্রয়োজন।
চেয়ারম্যান বলেন, “বেবিচক কর্মীদের জন্য এমন প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে যাতে তারা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে বিমানের যাত্রী, কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। একইসাথে এটি আমাদের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”
তিনি সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক করে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি নৈতিক দায়বদ্ধতারও অংশ। একজন সচেতন ব্যবহারকারী তথ্য লঙ্ঘন বা অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই দায়িত্ব অবহেলা করলে তা পুরো ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের সাইবার হুমকি এবং তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। বেবিচক আইটি বিভাগ এর মাধ্যমে নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে বিমান চলাচল খাতের তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায়।
চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আমরা চাই আমাদের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনলাইন ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ এবং দায়িত্বশীল হোক। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এর মাধ্যমে আমরা কেবল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করব না, বরং বিমান চলাচল খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রাখব।”
সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিজ্ঞা করেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক হবেন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করবেন। এটি শুধু বেবিচকের জন্য নয়, বরং দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।