প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ সার্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়নের দাবিতে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষকদের এই পদযাত্রা শুরু হয়। তবে হাইকোর্ট মাজারগেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শক্ত অবস্থানে থাকার কারণে আন্দোলনকারীদের রাস্তা সীমিত করা হয়েছে এবং দোয়েল চত্বর থেকে মৎস্য ভবন এবং মৎস্য ভবন থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যাত্রাপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের জলকামানও মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার তাদের দাবির তুলনায় ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে কাজ শুরু করবেন না এবং কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। তারা বলেন, এই প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ আন্দোলনের পূর্বপট হিসেবে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ শিক্ষকদের সরানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শিক্ষকদের সংগঠন নেতাদের আহ্বানে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার থেকে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
শিক্ষকরা আরও জানাচ্ছেন, তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ রাখলেও বৈষম্যমূলক নীতি ও অপ্রতুল ভাতার কারণে সরকারকে আন্দোলন উপেক্ষা করতে দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ ও সমমর্যাদাপূর্ণ নীতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়া হবে না।
শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের আশেপাশে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। পুলিশ ও শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা যায়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারের প্রতি বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বঞ্চিত করতে চান না, বরং তাদের দাবিগুলো মানা হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে। আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষকরা এই বার্তাও দিচ্ছেন যে, নির্ধারিত ভাতা ও বাড়িভাড়া না মিললে কর্মবিরতি ও সচিবালয় অভিমুখী আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এ আন্দোলনের পেছনে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের অনীহা ও বর্তমান প্রণীত নীতির প্রতি অসন্তুষ্টি কাজ করছে। শিক্ষকরা দাবি করছেন, সরকার যদি তাদের প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান না করে, তবে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য ও শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। তাদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি বার্তা, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হলেও আপত্তিকর নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এবং শিক্ষার মান ও শিক্ষক সমাজের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
শিক্ষকরা আশা করছেন, সরকারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তাদের দাবি বাস্তবায়ন হবে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশে ন্যায্যতা ফিরে আসবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।