সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আজ রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এটি আল-শারার রাশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

সফরের সময় আল-শারা রাশিয়ায় বসবাসকারী সিরীয়দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এ প্রসঙ্গে রয়টার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, আল-শারা তারতুসে রাশিয়ার নৌ ঘাঁটি এবং খমেইমিম বিমান ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে রাশিয়া থেকে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করার পরিকল্পনা করেছেন।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৫ বছর ধরে সিরিয়া শাসন করেছেন। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে অভ্যুত্থানের সময় তিনি পরিবারসহ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এতে দীর্ঘ দিনের বাথ পার্টির শাসন পরিসমাপ্তি ঘটে। এর পর জানুয়ারিতে আল-শারার নেতৃত্বে নতুন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠিত হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল-শারার এই সফর সিরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইরান, রাশিয়া এবং সিরিয়ার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

রাশিয়ায় সিরীয় অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। আল-শারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাশিয়ার সমর্থন চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইতিহাস দীর্ঘ। এ ধরনের সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া গৃহযুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের পর দেশের পুনর্গঠনে রাশিয়ার ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করার সুযোগও এই সফরে থাকবে।

সিরীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আল-শারা এই সফরে মূলত রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য আলোচনা করবেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিতে চাইবেন যে, নতুন প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারকে সম্মান জানাবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।

এই সফরের মাধ্যমে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার সমর্থন ছাড়া সিরিয়ার রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। তাই এই সফরকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিরিয়ার সাধারণ জনগণ আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা কমবে এবং নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সিরিয়ার এই নতুন উদ্যোগকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ফলে, রাশিয়া সফর শুধু কূটনৈতিক বৈঠক নয়, এটি সিরিয়ার রাজনৈতিক পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com