পেরুতে আবারো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার
পেরুতে আবারো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু আবারো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সরকারের অপরাধ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজধানী লিমায় পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বুধবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত একজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খবর ফ্রান্স২৪-এর।

জেন-জি আন্দোলনের ডাকে রাজধানী লিমা ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। কিছু অংশগ্রহণকারী পাথর ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের টিয়ারগ্যাস ব্যবহৃত হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।

বিক্ষোভে ক্ষুব্ধ জনতার দাবিগুলি মূলত সরকারের অপরাধ দমন ও সামাজিক ন্যায্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় প্রতিদিনের মতো এই আন্দোলনের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় অংকের অংশ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে। তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিয়মের জন্য প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরোধিতা করছে।

এর মাত্র ছয়দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি। তবে তার দায়িত্বগ্রহণের কিছুক্ষণ পরে এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, জনগণ দ্রুত পরিবর্তন এবং ন্যায্য প্রশাসনের প্রত্যাশা করছে। এর আগে, সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তের বিরুদ্ধেও আন্দোলন হয়েছিল তরুণদের নেতৃত্বে। ওই আন্দোলনের প্রভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

পেরুর এই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু রাজধানী লিমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই; দেশের অন্যান্য শহর ও গ্রামে বিরোধী আন্দোলনের ঢেউও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় পরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার অভাবে দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেরুর রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্নীতি, অপরাধ দমন ব্যর্থতা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার অভাব। জনগণ আশা করে নতুন প্রেসিডেন্ট দ্রুত স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করবেন। তবে বিক্ষোভের ধরণ ও গণসংহতির পরিমাণ দেখলে বোঝা যায়, দেশটির সাধারণ মানুষ সরকারের পরিবর্তন নিয়ে খুবই সচেতন এবং তাদের ক্ষোভ প্রকাশে তারা এখন কোনো দেরি করছে না।

প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি নতুন সরকারের মুখোমুখি হয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তার সরকারকে একদিকে জনগণের দাবিসমূহ পূরণ করতে হবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি সরকার জনগণের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করে, তবে বিক্ষোভ আরও বড় আকার নিতে পারে।

এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর একটি গুরুতর পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

পেরুর নাগরিকরা জানাচ্ছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাতে চায়, কিন্তু প্রশাসনের অবহেলা ও পুলিশি পদক্ষেপের কারণে সংঘর্ষ বাধতে বাধ্য হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার শোকাহত, আর আহতরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা গুরুতর।

পেরুর নতুন সরকারের জন্য এই বিক্ষোভ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনকে দ্রুত জনগণের সঙ্গে সংলাপ স্থাপন করতে হবে এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

এই বিক্ষোভ পেরুর নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করছে। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দেখাতে চায়, যে কোনো সরকারই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে বাধ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত