ব্রাজিলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
ব্রাজিলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিলে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তেই প্রাণ কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১৭ জনের। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পারনামবুকো প্রদেশের এক মহাসড়কে শুক্রবার গভীর রাতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই নারী বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশ। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাতের আঁধারে পারনামবুকোর একটি ব্যস্ত সড়ক ধরে চলছিল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীবাহী একটি বাস। স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে বাসটির চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর পরপরই বাসটি বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে, সেখান থেকে সড়কের পাশের পাথরে ধাক্কা খেয়ে একটি বালুর বাঁধে গিয়ে উলটে যায়। মুহূর্তেই পুরো বাসটি একপাশে কাত হয়ে যায়, ভেতরের যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন, কিন্তু তাদের অনেকেই জীবিত বের হতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়, বাকিদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃতদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং বাসের জানালা ভেঙে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করেন। রাতের অন্ধকার ও দুর্ঘটনাস্থলের দুর্গম অবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে সময় লেগেছে দীর্ঘ সময়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী রেসিফে শহরের হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চালক দুর্ঘটনায় হালকা আঘাত পেয়েছেন এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও ক্লান্তির কারণে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সড়কের অবস্থা সম্পর্কেও তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার মুহূর্তে বাসটির ভেতর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন, হঠাৎ করেই তারা ধাক্কা অনুভব করেন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি একাধিকবার উলটে যায়। উদ্ধারকর্মীদের মতে, বাসের ভেতরের বেশ কয়েকজন যাত্রী সিটবেল্ট না পরার কারণে গুরুতরভাবে আঘাত পেয়েছেন।

ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিহতদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সপ্তাহান্তে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক যাত্রীর আত্মীয় সাংবাদিকদের জানান, “ওরা সবাই একসঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছিল, এমনটা হবে আমরা ভাবতেও পারিনি। একটা মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।”

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পারনামবুকো রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাজিলে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান অবকাঠামোগত ত্রুটি, অতি গতি ও সড়ক নিরাপত্তার অভাবের কারণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের নানা উদ্যোগ নিলেও বড় দুর্ঘটনাগুলো এখনো ঘটেই চলেছে।

শনিবার রাতে বার্তাসংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানায়, এই দুর্ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের বন্যা বইছে। অনেকেই সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপ ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন দাবি করছেন।

দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রত্যেকটি প্রাণ অমূল্য। আমরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুর্ঘটনার পর বাস কোম্পানির পক্ষ থেকেও এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়, চালক দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ ছিল না। তারা নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রাজিলের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়ক নিরাপত্তা কোনো দেশের জন্য বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অল্প সময়ের এক অসতর্কতা বা অব্যবস্থাপনা কীভাবে মুহূর্তেই বহু জীবনের আলো নিভিয়ে দিতে পারে—পারনামবুকোর এই ঘটনা তার নির্মম উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত