সর্বশেষ :
এনসিপি সরকার গড়লে মন্ত্রী কারা? জানালেন পাটওয়ারী ভারতের স্বার্থ রক্ষায় লিপ্ত বিএনপি: জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের শীর্ষে বিদেশিরা: উদ্বেগজনক তথ্য ঐতিহাসিক শান্তিতে দেশজুড়ে দুর্গোৎসব উদযাপন হেফাজতের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট সমমনা ইসলামী দল কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী স্ত্রীর ভরণপোষণ নয়: দিল্লি হাইকোর্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৩ বার

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বা স্বনির্ভর স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকারী নন। আদালত বলেছে, স্থায়ী ভরণপোষণ কোনো আর্থিক সমতা আনার উপায় নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা কেবল প্রকৃতভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যক্তির সহায়তার জন্য প্রযোজ্য।

এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ দাবি করার জন্য আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি প্রকৃত অর্থেই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় আছেন। হিন্দু বিবাহ আইনের ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাধীন ব্যক্তি ভরণপোষণের দাবি করতে পারেন না।”

বেঞ্চের রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ভরণপোষণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় উভয় পক্ষের আর্থিক সামর্থ্য, সামাজিক অবস্থা ও বাস্তব নির্ভরতা বিবেচনা করতে হবে। আবেদনকারীর যদি প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতার প্রমাণ না থাকে, তবে সেই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদ ও ভরণপোষণ দাবি খারিজের রায় বহাল রাখে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্বামী পেশায় একজন আইনজীবী এবং স্ত্রী ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয়, তবে মাত্র ১৪ মাস পরই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হলে তারা আলাদা হয়ে যান।

স্বামীর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, অপমানজনক বার্তা পাঠিয়েছেন এবং দাম্পত্য অধিকার অস্বীকার করে পেশাগত ও সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। অন্যদিকে স্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামীর বিরুদ্ধেও নির্যাতনের পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

পরবর্তীতে পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করে জানায়, স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদে সম্মতি জানানোর শর্ত হিসেবে ৫০ লাখ রুপি আর্থিক সমঝোতা দাবি করেছিলেন, যা তিনি আদালতে নিজেই স্বীকার করেছেন। হাইকোর্টও সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হয়ে জানায়, “ফ্যামিলি কোর্টের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ভিত্তিহীন বা অযৌক্তিক নয়। বরং উপস্থাপিত প্রমাণের আলোকে এটি ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য ও যৌক্তিক।”

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, স্ত্রী তার স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে ‘অবমাননাকর ও অপমানজনক ভাষা’ ব্যবহার করেছেন এবং স্বামীকে ‘অবৈধ সন্তান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা আদালতের দৃষ্টিতে মানসিক নির্যাতনের শামিল।

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বিপুল পরিমাণ ভরণপোষণ দাবি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় শুধু এই প্রবণতায় লাগাম টানবে না, বরং ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই রায় ভবিষ্যতে পারিবারিক মামলাগুলোর রায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com