প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারী গত ২০ মে দুপুরে তার মেয়ের বাড়ি কলাবাড়ী গ্রাম থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল তরকারি ও মাছসহ একটি ব্যাগ। পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনের এলাকায় পৌঁছালে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে তার দেখা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় তরিকুল ইসলাম বৃদ্ধার কাছে থাকা ব্যাগটি বহন করে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়। তারা মেন্দের মাঠ এলাকার একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে অভিযুক্ত যুবক হঠাৎ করে ওই বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক আক্রমণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী ঘটনার পর মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় সাহস সঞ্চয় করে তিনি অবশেষে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুলমোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তরিকুল একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং রাতের মধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন বৃদ্ধার ওপর এমন নৃশংস ঘটনার অভিযোগে সাধারণ মানুষ হতবাক। অনেকেই বলছেন, নিরাপদ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে জনবল ও নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকটি এখনই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা জরুরি, নইলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।