শিক্ষক দের উদ্দশ্যে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
হাদির ওপর হামলা তদন্তে কঠোর নির্দেশ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি যৌক্তিক বলে বিবেচনা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, দেশের দীর্ঘ ১৫ বছরের সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এখনো সমাধান হয়নি। এ কারণে সরকার বাস্তবতার নিরিখে সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে মাথায় রেখে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছরের জুলাই মাস থেকে বাড়িভাড়া আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সামর্থ্য এবং সরকারী বাজেটের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় রেখে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বৈঠকে শিক্ষকদের বর্তমান দাবি, সরকারের সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস শিক্ষক–কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা শিক্ষকদের দাবি যথার্থ হিসেবে বিবেচনা করছি, তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের কারণে অর্থনীতি এখনো পূর্ণ গতিশীলতায় নেই। তাই আমরা বাস্তবতার প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি শিক্ষকদের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে না, বরং অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের অংশ।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং শিক্ষা খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের কর্মপ্রেরণা জাগাবে এবং তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরেও নবউদ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখবেন।

বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার ও অন্যান্য উপদেষ্টা শিক্ষকদের চলমান দাবির ন্যায্যতা, বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সকল উপদেষ্টাকে অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় রেখে সরকার শিক্ষাখাতের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এতে শিক্ষক–কর্মচারীরা আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসনের এই উদ্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দাবিকে কিছুটা হলেও পূর্ণতা দেবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাদানে মনোযোগী হয়ে আরও উন্নত মানের শিক্ষা পাবেন। প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষক–কর্মচারীদের নবউদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

এই পদক্ষেপ শিক্ষাক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি এটি শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

শিক্ষক–কর্মচারীদের জন্য বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত