সিলেটবাসীর প্রত্যাশা ও একজন সরোয়ার আলম এর টিকে থাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেট, বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় জেলা। পাহাড়, নদী, বন, মাটি ও মানুষের অনন্য সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জনপ্রশাসনের সাহসী কর্মকর্তা সারোয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি এবং জনসেবায় তার সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সারোয়ার আলম নামটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। খাদ্য, ওষুধ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে তার ভূমিকা আজও স্মরণীয়। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে তিনি দীর্ঘদিন সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার এই দৃঢ়তা ও ন্যায়নিষ্ঠা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন নির্ভীক প্রশাসক হিসেবে পরিচিত করেছে। এবার তিনি সিলেটে এসে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন উন্নয়নমূলক ও জনবান্ধব পদক্ষেপ নিয়ে।

জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সারোয়ার আলম সিলেট শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, নগর পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিক সেবায় গতি আনার মতো বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। শহরের রাস্তা, খাল ও ড্রেন সংস্কারে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সিলেটের ঐতিহাসিক নিদর্শন, আউলিয়াদের মাজার এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও তিনি বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন।

তবে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, সারোয়ার আলমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অনমনীয় অবস্থান। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুখাপেক্ষী না হয়ে তিনি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সিলেট প্রশাসনে এমন একজন কর্মকর্তা এসেছেন, যিনি সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়াতে ভয় পান না। তার নেতৃত্বে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।

তবে এক্ষেত্রে জনমনে একটি প্রশ্নও দেখা দিয়েছে—বর্তমানে বাংলাদেশে যখন প্রশাসনিক কাঠামো অনেকাংশে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, তখন সারোয়ার আলমের মতো নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা কি তার আদর্শে অটল থাকতে পারবেন? নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে কি তিনি তার পদে বহাল থাকতে পারবেন, নাকি অন্যান্য অনেক সৎ ও কর্মঠ কর্মকর্তার মতো তাকেও সরিয়ে দেওয়া হবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই বলছেন, “সারোয়ার আলমের মতো কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই এমন কর্মকর্তাদের স্থানচ্যুত করা হয়, যা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।” আবার অনেকে মনে করেন, “বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন, তারা সরকারের দলীয়করণে নয়, জনগণের সেবায় বিশ্বাসী। তাই সারোয়ার আলমের মতো কর্মকর্তাদের জায়গা থাকা উচিত প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সারোয়ার আলমের মতো সাহসী ও জনপ্রশাসনমুখী কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে। তারা বলেন, “একজন জেলা প্রশাসক যদি দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে। এটি শুধু উন্নয়ন নয়, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে।”

সিলেটের জনগণের মধ্যে সারোয়ার আলমের প্রতি ইতিমধ্যে এক ধরনের শ্রদ্ধা ও আস্থা গড়ে উঠেছে। অনেকেই তাকে “জনতার ডিসি” হিসেবে উল্লেখ করছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে তিনি হঠাৎ পরিদর্শন করে নাগরিক সমস্যা পর্যালোচনা করছেন, সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিচ্ছেন। এসব উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের নতুন ধারা তৈরি হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা যেমন পরিবর্তনশীল, তেমনি প্রশাসনিক অবস্থানও অনেক সময় সেই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। তাই সাধারণ মানুষের আশা—যে কোনো সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সারোয়ার আলমের মতো আদর্শবান কর্মকর্তারা যেন তাদের সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে পদে বহাল থাকেন, যাতে দেশের প্রশাসন রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে।

সিলেটের উন্নয়ন এখন যে গতি পেয়েছে, তা যেন সাময়িক না হয়—এই প্রত্যাশাই স্থানীয়দের মুখে মুখে। কারণ, দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসকই পারে প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে। সারোয়ার আলম সেই ধারারই প্রতিনিধি, যিনি প্রমাণ করেছেন—সততা ও দায়িত্ববোধ থাকলে যে কোনো পদেই একজন কর্মকর্তা দেশের জন্য পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে পারেন।

প্রশ্ন শুধু একটাই—সেই পরিবর্তনকে কি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত