লেভারকুসেনে গোলবন্যায় পিএসজির দাপুটে জয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১ বার
লেভারকুসেনে গোলবন্যায় পিএসজির দাপুটে জয়

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জার্মানির বায়ার অ্যারেনায় মঙ্গলবার রাতে এক ঐতিহাসিক ম্যাচে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) দারুণ দাপট দেখিয়ে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই গ্রুপপর্বের খেলাটি ছিল গোল উৎসব ও রোমাঞ্চে ভরপুর।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে পিএসজি। খেলার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় উইলিয়ান পাছোর দুর্দান্ত এক শটে লিড নেয় ফরাসি ক্লাবটি। এর পরেই খেলায় উত্তেজনা বাড়ে—৩৩ মিনিটে লেভারকুসেনের রবের্ত আন্দগিশ এবং ৩৭ মিনিটে পিএসজির ইল্লা জাবারানি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দুই দলই দশজনের দলে পরিণত হয়।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরে লেভারকুসেন। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ সে সমতা টেকেনি। পিএসজির দ্রুত পাল্টা আক্রমণে একের পর এক গোল হজম করতে থাকে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই আরও তিন গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ এ নিয়ে যায় ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন একতরফা গোল উৎসবে পরিণত হয় ম্যাচটি। নুনো মেন্ডিস, ওসমানে ডেম্বেলে এবং ভিতিনহার পরপর গোলের বন্যায় প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে পিএসজি। লেভারকুসেন শেষ মুহূর্তে এক গোল শোধ করলেও তাতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি ফলাফলে। শেষ পর্যন্ত ৭-২ ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে প্যারিসিয়ানরা।

পুরো ম্যাচ জুড়েই দেখা গেছে পিএসজির আক্রমণাত্মক ফুটবল। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, উইং থেকে দ্রুত পাস, এবং ফরোয়ার্ড লাইনের নির্ভুল ফিনিশিং—সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলটি দেখিয়েছে তাদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রকৃত চিত্র। গোলবারে ভরসা জাগানো পারফরম্যান্স দিয়েছেন তাদের গোলরক্ষকও, যিনি কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ থেকে দলকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, লেভারকুসেনের রক্ষণভাগ ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। ম্যাচের শুরু থেকেই তারা নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারেনি। একের পর এক ভুল পাস ও কভারেজে দুর্বলতা তাদের বিপদে ফেলে। লাল কার্ডের পর থেকে যেন পুরো দল দিশাহারা হয়ে পড়ে।

ম্যাচ শেষে পিএসজির কোচ বলেন, “আমরা জানতাম লেভারকুসেন ঘরের মাঠে শক্তিশালী দল। কিন্তু আমরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছি।” তিনি আরও বলেন, “দলটি একসঙ্গে কাজ করছে, আর এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

অন্যদিকে, লেভারকুসেন কোচ ম্যাচশেষে হতাশা প্রকাশ করে জানান, “এই হারে আমরা হতাশ। আমাদের রক্ষণে বেশ কিছু মৌলিক ভুল ছিল, যা বড় ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ হয়েছে। আগামী ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই।”

এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো পিএসজি। এখন পর্যন্ত সব ম্যাচে তারা অপরাজিত এবং গোল ব্যবধানেও এগিয়ে রয়েছে অনেক দূর। এই পারফরম্যান্সে আবারও প্রমাণ মিললো যে ইউরোপের শিরোপাধারীরা কেবল নামেই নয়, মাঠের খেলাতেও শাসন করছে প্রতিপক্ষকে।

অন্যদিকে, লেভারকুসেনের জন্য এই হার এক বড় ধাক্কা। নিজেদের ঘরের মাঠে এমন বিপর্যয় কেবল মনোবলেই নয়, গ্রুপের অবস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তাদের হাতে এখনও সুযোগ আছে পরবর্তী ম্যাচগুলোয় ঘুরে দাঁড়ানোর।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পিএসজির এই জয় কেবল বড় ব্যবধানের কারণে নয়, খেলার ধরণ ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণের দিক থেকেও একটি বার্তা দিয়েছে। প্রতিপক্ষের মাঠে দাঁড়িয়ে ৭ গোল করা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। এই জয় তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়—এটি আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীকও বটে।

লেভারকুসেনের বিপক্ষে পিএসজির এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো—তারা এখনও ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ আসনে আসীন এবং যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভয়ংকর এক শক্তি হিসেবে বিবেচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত