মেট্রো স্টেশনে ঢুকলেই দিতে হবে ১০০ টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪১ বার
মেট্রো স্টেশনে ঢুকলেই দিতে হবে ১০০ টাকা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার মেট্রোরেল ব্যবহারে যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এখন থেকে কেউ যদি মেট্রোরেলের কোনো স্টেশনে কার্ড স্ক্যান করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং যাত্রা না করে একই স্টেশন দিয়ে বেরিয়ে আসেন, তাহলে তাঁর কার্ড থেকে ১০০ টাকা ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ইতিমধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এর আগে নিয়ম ছিল, কেউ যদি স্টেশনে ঢোকার পাঁচ মিনিটের মধ্যে আবার বেরিয়ে আসতেন, তাহলে কোনো টাকা কাটা হতো না। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই সুযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মেট্রোরেলের স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং সিস্টেমে একই স্টেশনে ‘এন্ট্রি–এক্সিট’ রেকর্ড পাওয়া গেলে সেটি ১০০ টাকার একটি যাত্রা হিসেবে গণ্য হবে।

ডিএমটিসিএল জানায়, নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো যাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং ভাড়া ফাঁকি রোধ করা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু যাত্রী ভাড়া না দিয়ে স্টেশনে ঢুকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন বা ভুলভাবে কার্ড স্ক্যান করেও যাত্রা বাতিলের অজুহাতে বেরিয়ে যেতেন। ফলে সিস্টেমে ভাড়া নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল।

এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “একই স্টেশনে বিনা ভাড়ায় প্রবেশ ও প্রস্থান আর সম্ভব নয়। একই স্টেশনে এন্ট্রি ও এক্সিট করলে ১০০ টাকা ভাড়া কাটা হবে। যাত্রীরা যেন নিয়ম মেনে যাত্রা সম্পন্ন করেন, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে এ সংক্রান্ত নোটিশ টাঙানো হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে যে ভুলবশত ভেতরে ঢুকে পড়লেও তাদের ১০০ টাকা কর্তন করা হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেক নিয়মিত যাত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই বলছেন, কেউ যদি হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা, জরুরি ফোনকল, বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে তাঁর কাছ থেকেও ১০০ টাকা কেটে নেওয়া অন্যায়। তারা মনে করছেন, যাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই নিয়মের প্রয়োজন থাকলেও সবার জন্য সমান হারে জরিমানা আরোপ করা অযৌক্তিক।

মেট্রোরেলে প্রতিদিন গড়ে দুই লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, “কখনও কখনও কার্ড স্ক্যান করার পর বুঝতে পারি যে ট্রেন আসতে দেরি হচ্ছে, বা কোথাও যেতে হবে না। তখন বাইরে বেরিয়ে যাই। কিন্তু এখন থেকে যদি এমন পরিস্থিতিতেও ১০০ টাকা কাটা হয়, সেটা অত্যন্ত কষ্টকর।”

অন্যদিকে, অনেক যাত্রী নতুন নিয়মকে সমর্থনও করছেন। তাদের মতে, নিয়ম না মানা যাত্রীদের কারণে অনেক সময় প্ল্যাটফর্মে ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সবার জন্য সমান নিয়ম প্রযোজ্য করাই ভালো।

ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি কিছু যাত্রী হয়তো শুরুতে অসুবিধায় পড়বেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবাই নিয়ম মেনে চলতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। মেট্রোরেল একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, এখানে প্রযুক্তিনির্ভর নীতিমালা ছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন।”

যদিও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য যাত্রীদের হয়রানি নয়, বরং ভাড়া সিস্টেমে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা আশা করছে, নিয়ম মেনে চললে এবং কার্ড ব্যবহারে সচেতন হলে ভবিষ্যতে এই জটিলতা আর থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত