বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, গভীর রাতে ওএমএসের চাল বিক্রির অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৩ বার
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, গভীর রাতে ওএমএসের চাল বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় সরকারের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ডিলার আরিফ আল হাজারীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাত গভীরে তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে এসব চাল সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে একটি রিকশা। জব্দ করা হয় নয় বস্তা চালসহ একটি অটোরিকশা, যদিও বাকি দুটি রিকশা দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১২টার দিকে। চরআলগী ইউনিয়নের ভাটিপাড়া মাস্টারবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আরিফ আল হাজারী বিএনপির স্থানীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি চরআলগী ইউনিয়নে ওএমএস কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্ধারিত দামে জনগণের জন্য বরাদ্দ চাল নিয়মিতভাবে কালোবাজারে বিক্রি করতেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতের শেষ প্রহরে চরআলগী ইউনিয়নের নিধিয়ারচর গাইনপাড়া মাদ্রাসা মার্কেট এলাকায় তিনটি অটোরিকশা চাল বোঝাই করে দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক রিকশাগুলোকে ধাওয়া করে। এর মধ্যে একটি রিকশা আটক করা সম্ভব হয়, বাকিগুলো পালিয়ে যায়। আটক রিকশাটিতে নয় বস্তা সরকারি ওএমএস চাল পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশকে খবর দেন। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা (৬৭) ও নজরুল ইসলাম (৫১) বলেন, “আরিফ ডিলার আগেও বহুবার সরকারি চাল রাতে বিক্রি করেছে। আমরা বহুবার দেখেছি সে গোপনে চাল সরিয়ে নিচ্ছে। এবার তার চাল হাতে–নাতে ধরা পড়েছে। এমন চোর ডিলারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে কেউ আর সাহস না পায়।”

অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আরিফ আল হাজারী ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই গফরগাঁও থানার এসআই কবির হোসেন ও এএসআই মামুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসআই কবির বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাই। জব্দকৃত চাল ও অটোরিকশা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্ত চলছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “সরকারি ওএমএস চাল জনগণের জন্য। যদি প্রমাণ হয় কোনো ডিলার এসব চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছে, তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওএমএস কর্মসূচি সরকারের অন্যতম একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষ নির্ধারিত দামে চাল ও আটা কেনার সুযোগ পান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই চাল কালোবাজারে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ বারবার উঠছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্যমূল্যে খাদ্য কেনার সুযোগ থেকে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ওএমএসের চাল বিক্রির মতো অপরাধ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সরকারি খাদ্য কর্মসূচিগুলো এভাবেই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্ত শেষ হলে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

গফরগাঁওয়ের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করছে, সরকারি ত্রাণ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। স্থানীয়রা আশাবাদী—এই ঘটনার বিচার হলে ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারি সাহায্য আত্মসাতের সাহস করবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত