আজ শেষ হচ্ছে এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জের সময়সীমা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭১ বার
আজ শেষ হচ্ছে এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জের সময়সীমা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ আজই শেষ হচ্ছে। যারা নিজেদের ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট বা কোনো ভুলের সম্ভাবনা মনে করছেন, তারা আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এর পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

গত ১৭ অক্টোবর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করা যাবে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষা বোর্ড বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি আবেদন গ্রহণ করবে না।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। সেই হিসাবে আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তাদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে।

অধ্যাপক হায়দার আরও বলেন, পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। বরং পরীক্ষার সময় নম্বর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল বা প্রশ্ন বাদ পড়েছে কিনা, সেটি যাচাই করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে, ১৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একযোগে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বা মোবাইলে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পেরেছেন।

চলতি বছর সারাদেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বোর্ডেই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়—২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন। এরপর রাজশাহীতে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন এবং চট্টগ্রামে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৬১ হাজার ২৫ জন, সিলেটে ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৬ হাজার ১০২ জন, আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ফলাফল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। যদিও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়, তবু এটি ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা ফলাফলে হতাশ হলেও প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় আবেদন করা সহজ হয়েছে। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, আবেদন ফি তুলনামূলক বেশি এবং ফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত।

তবু শেষ মুহূর্তে অনেকে চেষ্টা করছেন নিজেদের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেওয়ার। কেউ মোবাইলের পর্দায় ওয়েবসাইট খুলে আবেদন করছেন, কেউ আবার সাইবার ক্যাফেতে লাইন দিচ্ছেন। তাদের চোখে একটিই আশা—‘একটা নম্বর বাড়লে হয়তো গ্রেডটা পাল্টে যাবে।’

আজকের মধ্যেই শেষ হচ্ছে সেই আশার সময়সীমা। শিক্ষার্থীদের জন্য তাই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন সবার চোখ আগামী নভেম্বরের দিকে—কখন প্রকাশিত হবে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল এবং কারা পাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের খবর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত