প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি, যা আলোর উৎসব হিসেবেই পরিচিত। প্রতিবছর এই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় সারাদেশে। বাড়ি-ঘর আলোকসজ্জা, মিষ্টান্ন বিতরণ, পূজা-অর্চনা এবং আতশবাজির ঝলকানিতে ভরে ওঠে রাতের আকাশ। তবে এই উৎসবের আনন্দের মধ্যেও বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও ভয়ের পরিবেশ। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি—সিলেটে আতশবাজি ফাটানোর সময় এক শিশুর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীপাবলি উদযাপনের অংশ হিসেবে এলাকার কিছু তরুণ আতশবাজি ও ফটকা ফাটাচ্ছিলেন। এ সময় একটি আতশবাজির অংশ ছিটকে গিয়ে এক শিশুর চোখে লাগে। শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির চোখে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দীপাবলির মতো আনন্দঘন উৎসবে এমন বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। নেটিজেনরা লিখেছেন, “আলোর উৎসব আনন্দের হোক, আগুনের নয়।” কেউ কেউ বলছেন, “আতশবাজি নয়, প্রদীপ আর আলোই হোক উৎসবের প্রতীক।” অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, আতশবাজির শব্দে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হৃদরোগী ও অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা এসব শব্দে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত পান।
বাংলাদেশ সরকার সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল ভূমিকা রেখে থাকে। প্রতি বছর দীপাবলিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে এবারও সতর্কবার্তা জারি করা হলেও অনেক জায়গায় তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজির শব্দ ও ধোঁয়া পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে বাতাসে কার্বন ও সালফারের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এমন রীতির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ উপায়ে দীপাবলি উদযাপন করা উচিত।
সচেতন নাগরিকদের আহ্বান, আনন্দের উৎসব যেন কখনোই কারও জন্য বেদনার কারণ না হয়। উৎসবের মর্মবাণী হলো আলোর মাধ্যমে অন্ধকার দূর করা—অবিবেচনাপ্রসূত কাজের মাধ্যমে নতুন অন্ধকার তৈরি করা নয়। তাই এখনই সময়, সমাজের সবস্তরে আতশবাজি ও ফটকা ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার।
সিলেটের ঘটনাটি যেমন একটি পরিবারের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে, তেমনি সমাজে নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নও তুলেছে। ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও আনন্দ বজায় রাখতে প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উদযাপন এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও নিরাপত্তাবোধের বিকাশ। দীপাবলির আলোকময়তায় যেন আর কোনো শিশু অন্ধকারে হারিয়ে না যায়—এই প্রত্যাশাই এখন সর্বত্র।









