‘দায়িত্ব শেষ করেই বাঁচতে চাই’ — ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার
সব দলের অভিযোগই আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

“আপনারা আমাদের কাজের সমালোচনা করবেন, আমরা সেটা গ্রহণ করব। তবে সত্য বিকৃত না করার আহ্বান জানাই। কারণ, গণমাধ্যমের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্কের মধ্যে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, “দায়িত্ব শেষ করে যত তাড়াতাড়ি যেতে পারি, ততই বাঁচব।” বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু বক্তব্যে ছিল বাস্তবতা ও স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক সমালোচনা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত ও ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দলেরই সম্মতি ছিল। তিনি জানান, এসব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হয়, তাই এখন রাজনৈতিকভাবে কিছু দল এর বিরোধিতা করছে সেটা হয়তো কৌশলগত অবস্থান বা রাজনৈতিক নাটকীয়তা হিসেবেই দেখা উচিত।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা যাদের নিয়ে কাজ করছি, তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের কার্যক্রমে তারা সন্তুষ্ট, অন্তত বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো অসন্তোষ প্রকাশ পায়নি।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখছে।

বৈঠকে আলোচ্য আইন ও সংস্কার প্রসঙ্গে অধ্যাপক নজরুল জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে শ্রম আইন সংশোধনী (অ্যামেন্ডমেন্ট) এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আরপিও (Representation of the People Order) আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। এ দুটি আইন আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া, বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন সম্পর্কেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আসিফ নজরুল বলেন, এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রূপ পাবে। তিনি জানান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আইন পাস হলে ঐতিহাসিক ঘটনার সংরক্ষণ ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ব্রিফিং চলাকালীন সময়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে আত্মসমালোচনামূলক সুর স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের এই দায়িত্বের পরিধি অনেক বড়, কিন্তু পরিবেশটি সহজ নয়। প্রতিদিন নানা রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মধ্যেই কাজ করতে হয়। আমি চাই এই দায়িত্ব শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে যে কোনো পরিবর্তনই জনগণের সম্মিলিত চেষ্টার ফল। আমরা কেবল সেই প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করার চেষ্টা করছি। যারা এই প্রচেষ্টাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন, তারা আসলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চান।”

ব্রিফিং শেষে আইন উপদেষ্টা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আমাদের কাজের সমালোচনা করবেন, আমরা সেটা গ্রহণ করব। তবে সত্য বিকৃত না করার আহ্বান জানাই। কারণ, গণমাধ্যমের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিনের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য, ফরেন সার্ভিস একাডেমির মহাপরিচালক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

রাজনৈতিক মহলে আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের অভ্যন্তরীণ চাপ ও জটিলতার একটি ইঙ্গিত। অন্যদিকে সরকারপন্থি বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত