আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০ বার

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় আইজিপির অফিস কক্ষে। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকের শুরুতে আইজিপি বাহারুল আলম মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পুলিশ বাহিনীর বর্তমান সংস্কার কার্যক্রম, আধুনিকায়ন প্রকল্প, এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় দেশের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিবেদিত। রাষ্ট্রদূত ও আইজিপির মধ্যে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যতের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা এবং তাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পুলিশ বিদেশি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা পালন করছে এবং এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়িত হবে।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচনের নিরাপত্তা কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই নিবিড় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অগ্রাধিকারমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পুলিশ ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এই সুযোগে পুলিশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তথ্য বিনিময় করার আহ্বান জানান। বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

আইজিপি বাহারুল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ ও মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। এই সহযোগিতা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এর দায়িত্বে সরকারি মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

সাক্ষাৎকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশ বাহিনীরআধুনিকীকরণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতির প্রমাণ। এছাড়া, বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ এবং আইজিপি বাহারুল আলমের পরিষ্কার নির্দেশনার কারণে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকরীভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষাতের পর দুই পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত সমন্বয় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত