রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহর ৩৮ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার
রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহর ৩৮ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান ত্বরান্বিত

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দুর্নীতি ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রূপালী ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৩৮টি হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবের মধ্যে ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৫৩৫ টাকা রয়েছে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম আদালতে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে বিবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক এবং আমানতকারীদের অর্থ তছরূপ করার অভিযোগ রয়েছে। তার নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবগুলোতেও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করে মানিলন্ডারিংয়ের উপাদান থাকার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ দেখা দেয়। তাই আদালত তাদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ রূপালী ব্যাংক পিএলসির এমডি থাকাকালীন সময়ে ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন করিয়ে সেই অর্থ ব্যক্তিগত কাজে, বিশেষ করে পুত্রের বিদেশি শিক্ষার খরচে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবসমূহে তৃতীয় পক্ষ থেকে নগদ অর্থ জমা, ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে অজানা উৎস থেকে অর্থ গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমহীন প্রতিষ্ঠানসমূহে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। এসব কার্যক্রম অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে দুদক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দুদক আশা করছে, এই অভিযান প্রমাণ করবে যে ব্যাংকিং খাতে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এই প্রক্রিয়া অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করবে, যাতে তারা আর্থিক দায়িত্ব পালনে সতর্ক ও নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করেন।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ আগামীতে আরও বিস্তৃত তদন্তের পথ সুগম করবে। এছাড়া, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে এই ধরনের ব্যবস্থা জনগণকে আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বচ্ছতা ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে কঠোরভাবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত