প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে জাতিসংঘ ইসরাইলকে আরও বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিতে আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক আল জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেন, রাফাহ ক্রসিং খোলা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সেখানে মানবিক সাহায্য নির্বিঘ্নভাবে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, “গাজায় ত্রাণ সরবরাহের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অনেক কম, যা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলছে।”
ফারহান হক উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় কোনো দিনই ৬০০টির বেশি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত ক্রসিংয়ে ত্রাণবাহী ট্রাক ও বাণিজ্যিক যানবাহন নির্বিঘ্নভাবে প্রবেশের অনুমতি দিক।”
তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক এবং বাণিজ্যিক যানবাহন গাজায় প্রবেশের হার কিছুটা বেড়েছে, যা মানবিক সহায়তার জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ। তবে যুদ্ধবিরতির আগে ত্রাণ প্রবেশের মাত্রা এতোটাই কম ছিল যে জাতিসংঘ-সমর্থিত পর্যবেক্ষক সংস্থা সেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসও সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজায় অনাহারে রয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে ত্রাণ পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, “সহায়তা সামগ্রী ঢুকলেও তা গাজাবাসীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে একেবারেই অপ্রতুল। যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি এখনো বিপর্যয়কর।”
গত দুই বছরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ হাজার ২৮০ জন নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজার ৩৭৫ জন আহত হয়েছেন। ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ এখনও জীবনযাত্রার জন্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফারহান হক এবং টেড্রোস উভয়ই জোর দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হতে হবে, যাতে রাফাহ ক্রসিং খোলা হয় এবং ত্রাণ নির্বিঘ্নভাবে পৌঁছাতে পারে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রাথমিক সহায়তা দ্রুত গাজাবাসীর হাতে পৌঁছানো না হলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করেছেন, গাজায় মানবিক সংকটের মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনধারণে অতি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ত্রাণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।
মানবিক সহায়তা, নিরাপদ পানি, ওষুধ এবং খাদ্য পৌঁছানোর বিষয়গুলো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গাজায় সাধারণ মানুষ দারিদ্র্য, অনাহার এবং চিকিৎসা সংকটের মধ্যে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা এবং রাফাহ ক্রসিং খোলার তৎপরতা ছাড়া পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।
গাজায় চলমান এই মানবিক সংকট শুধু স্থানীয় জনগণের জীবন বিপন্ন করছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে