জালিয়াতির অভিযোগে শিবলী ও রিয়াজকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
জালিয়াতির অভিযোগে শিবলী ও রিয়াজকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ পুঁজিবাজারে জালিয়াতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশন সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজার কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় নেওয়া হয়, যা বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিএসইসির ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো ঘটেছে, যেখানে সাবেক কোনো চেয়ারম্যানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করা হলো।

হাসিনাসহ তিনজনের বিচারকাজ শেষ: রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কমিশন যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে অবশ্যই অভিযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ দিতে হয়। শিবলী রুবাইয়াত এবং রিয়াজ ইসলামকে ব্যক্তিগতভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হলেও শিবলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় এবং রিয়াজ হাইকোর্টে চলমান রিটের বিষয় দেখিয়ে শুনানিতে অংশ নেননি।

শিবলী রুবাইয়াতকে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির একটি বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে দুদকের করা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, শিবলীকে তিন দফা লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছিল শুনানির জন্য, কিন্তু তিনি কারাগারে থাকার কারণে আইনজীবীর মাধ্যমে অংশ নেওয়া সম্ভব থাকা সত্ত্বেও শুনানিতে অংশ নেননি। রিয়াজ ইসলামও একইভাবে হাইকোর্টের রিটের বিষয় দেখিয়ে শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

আজীবন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর শিবলী রুবাইয়াত কোনো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, সিকিউরিটিজ সংস্থা বা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে তার কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

রিয়াজ ইসলামের ক্ষেত্রে বিএসইসি কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত নিতে হবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত না দিলে তাকে ৯৮ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হবে। রিয়াজ ইসলামের বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে পদ্মা প্রিন্টার্স ও কালার লিমিটেড এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে গঠিত কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীরা যাতে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই বিএসইসি এমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিএসইসি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে আদেশ জারি করবে এবং সেই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংস্থা শেয়ারবাজারে বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি জালিয়াতি রোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে চাইছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত