৯-১-১ ‘ন্যাশভিল’-এর জুলি এখন শুধু স্মৃতিতে, ২৩ বছর বয়সে ইসাবেল টেটের বিদায় বিনোদন জগতে শোকের ছাপ ফেলল।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫১ বার
“‘৯-১-১: ন্যাশভিল’-এর জুলি এখন শুধু স্মৃতিতে, ২৩ বছর বয়সে ইসাবেল টেটের বিদায় বিনোদন জগতে শোকের ছাপ ফেলল।

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন জগতে নতুন আলো হয়ে ওঠা তরুণ অভিনেত্রী ইসাবেল টেট ২৩ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। ১৯ অক্টোবর ইসাবেলের মৃত্যু হয়, যা তাঁর এজেন্সির বরাত দিয়ে পিপলডটকম জানায়। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে।

ইসাবেল জন্মগত একটি বিরল স্নায়বিক রোগে ভুগছিলেন, যা পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকে প্রভাবিত করত। এই রোগের কারণে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা সীমিত ছিল, কিন্তু তা কখনও তাঁর অভিনয় দক্ষতা বা সৃজনশীলতা সীমিত করতে পারেনি। মাত্র কিশোরী বয়স থেকেই তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্নের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা অটল ছিল।

তরুণ এই অভিনেত্রীকে সর্বাধিক পরিচিতি এনে দেয় জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘৯-১-১: ন্যাশভিল’। এটি রায়ান মারফির তৈরি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পিন-অফ সিরিজ, যা টেনেসির জরুরি সেবাকর্মীদের জীবনের নানা চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে তৈরি। ইসাবেল সিরিজের পাইলট পর্বে জুলি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই চরিত্রটি তাঁর জন্য একটি বড় কেরিয়ারমাইলফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিরিজের প্রিমিয়ার অক্টোবর মাসেই সম্প্রচারিত হয়, কিন্তু এর কিছু দিনের মধ্যেই ইসাবেলের প্রয়াণ ঘটে।

ইসাবেলের এজেন্সি বিবৃতিতে জানায়, “ইজি (ইসাবেলের ডাকনাম) আমাদের কিশোরী বয়স থেকেই পরিচিত ছিল। কিছু সময় অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে ছিলেন, তবে ফিরে আসার পর প্রথম অডিশনেই কাজ পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। শুটিং করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নের কাজটি পূর্ণ করতে পেরে তিনি খুশি ছিলেন।”

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

চলতি বছরের জুন মাসে ইসাবেল সিরিজটির শুটিং সম্পন্ন করেন। তার অভিনীত পর্ব সম্প্রচারিত হয় ৬ অক্টোবর। সিরিজের তৃতীয় পর্ব ২৩ অক্টোবর সম্প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল, যা তাঁর সহ-অভিনেতা ক্রিস ও’ডনেল, লিয়ান রাইমস, মাইকেল প্রোভোস্ট, জেসিকা ক্যাপশ, কিম্বারলি উইলিয়ামস-পেইজলি, জুয়ানি ফেলিজসহ আরও অনেকে সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

ইসাবেলের শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনও তাঁর প্রফেশনাল জীবনের মতোই গুরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ন্যাশভিলে জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন এবং মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে তিনি শিক্ষাগত ক্ষেত্রের পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। ইসাবেলের বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা তাঁকে অনুপ্রেরণামূলক এবং কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে স্মরণ করেন।

তরুণ অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভক্তরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, “এমন এক উজ্জ্বল প্রতিভা এত অল্প বয়সে চলে গেল, যা টেলিভিশন ও বিনোদন জগতে অমূল্য ক্ষতি।” তাঁর সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, যে ইসাবেলের আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতা শুটিং সেটে সর্বদা অন্যদের অনুপ্রাণিত করত।

টেলিভিশন জগতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসাবেলের অভিনয় জীবনের স্বল্পকালীন সাফল্যই প্রমাণ করে যে তিনি অভিনয়ের ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিভা ও সম্ভাবনা রাখতেন। তার পাইলট পর্বের অভিনয় ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতের বড় প্রজেক্টের জন্য তিনি এক অনন্য সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হতেন।

ইসাবেলের মৃত্যু শুধুমাত্র তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নয়, পুরো বিনোদন জগতের জন্যও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি যে অল্প সময়ে দর্শক হৃদয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন, তা সহজে পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে ‘৯-১-১: ন্যাশভিল’-এর জনপ্রিয়তা এবং জুলি চরিত্রের প্রতি দর্শকদের আবেগ, ইসাবেলের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে।

হাসিনাসহ তিনজনের বিচারকাজ শেষ: রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর

আজ শুক্রবার টেনেসিতে ইসাবেলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীরা শোকাহত হয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। টেনেসির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শেষকৃত্য সরল এবং গোপন রেখেছে যাতে পরিবারের ব্যক্তিগত ইচ্ছা মানা যায়।

ইসাবেলের জীবন এবং সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিভা বয়সে নয়, পরিশ্রম ও নিষ্ঠায় পরিমাপিত হয়। অল্প বয়সে তার জীবনের শেষ হওয়া অনেকের জন্য একটি মর্মস্পর্শী বিষয় হলেও, তাঁর কাজ এবং অবদান দীর্ঘদিন ধরে দর্শক ও সহকর্মীদের মনে জীবন্ত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত