যদি ভোটে জিততে পারে বিএনপি কে হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮২ বার
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধি দলের বৈঠক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভোটে জিতলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কারা হবেন — এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বক্তব্য দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, যদি ভোটে জিততে পারে বিএনপি, তাহলে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে বিবেচনায় রাখবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–কে। তবে তার শারীরিক অবস্থা অথবা অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরিক রাহমান-কে।

এই অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে বিএনপি-এর নেতৃত্বের মধ্যে চলমান নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত তাঁর অফিসে একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, “চেয়ারপারসন যদি শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম থাকেন, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর যদি না থাকেন, তাহলে আমাদের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেবেন।”

এখানে উল্লেখযোগ্য যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক প্রতিকূলতা বিদ্যমান। দুই মামলায় কারাগারে থাকতে থাকতে তিনি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বশেষ রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর অংশগ্রহণ অনেকটা সীমিত হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি-র এই ঘোষণা দলীয় ধারণা ও কৌশলের আয়নায় একটি নতুন রূপরেখা আনতে পারে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “তরিক রাহমানই ভবিষ্যতের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবছেন” — এমন বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আজ আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু বর্তমান সময়ের নয়, ভবিষ্যতের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী।” এই প্রসঙ্গে তিনি তথাকথিত দলের ৩১-পয়েন্ট কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব আরও একাধিক বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, দল February ২০২৬ গড়ার কথা বলছে নির্বাচনের পরিকল্পনায়। নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোর আগ্রহ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দ্রুত পরিবর্তন বিবেচনায়, বিএনপি এই সময়কে “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই ঘোষণা-বিবৃতির পটভূমিতে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও — যেমন খালেদা জিয়ার পরিচ্ছন্নতা, সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কতটা সম্ভব? তার অনুপস্থিতি বা সক্ষমতার অভাবে শ্রেষ্ঠ বিকল্প হিসেবে যে তরিক রাহমানকে ধরা হয়েছে, তার দেশের রাজনীতিতে বৈধতা-প্রত্যয় ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের সক্ষমতা কতটা শক্তিশালী তা নিয়েও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। অবশ্য একই সঙ্গে বিএনপি বলছে, “আমাদের দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধায় নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণার একাধিক তাত্পর্য রয়েছে। প্রথমত, বিএনপি একরকমভাবে নতুন সাংগঠনিক রূপ নিচ্ছে — যেখানে মূল নেতাদের স্থল এলাকায় (ground level) ভূমিকা থেকে উঠে আসা দায়-বাধ্য নেতা কাঠামো গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, খালেদা-জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে “পরিকল্পিত ও বিকল্প নেতৃত্ব” নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তৃতীয়ত, এই ধরণের নির্ধারিত পরিকল্পনা দলের ভোটার ও শুভাকাঙ্খীদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে — “নিউ বাংলাদেশ” গড়ার রূপকাররা শুধু নির্বাচিত হবেন না, দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবেন, এমন ধারণা প্রচার করা হচ্ছে।

তবে রাস্তায় প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে: বিএনপি-এর এই “আস্থা” কতটুকু বাস্তব? নির্বাচনী-প্রচার, সময়োপযোগী নেতৃত্ব, ভোটার-সক্রিয়তা, প্রতিদলীয় প্রতিযোগিতা—এসব অর্জনে পার্থক্য গড়তে পারলে শুধু নাম ঘোষণা দিয়ে কাজ শেষ হয় না। সামনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশন-বহির্ভূত প্রক্রিয়া, সক্ষমতা ও কর্মী-সংগঠন এসবই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে খালেদা-জিয়ার রাজনৈতিক অনুপস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় দলের কার্যকরতা, স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের আস্থা ফিরে সংগ্রহ করা নাটকীয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপি ও তার সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনরুদ্ধার-আন্দোলনায় জড়িত রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক আলোচনায় বিএনপি নিজেকে “নতুন অধ্যায়ের অংশ” হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া অথবা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তরিক রাহম্যানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করাটা দলীয় কৌশলে একটি প্রতীকী সঙ্কেতও হতে পারে — “উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের পরিবর্তন বাধ্যতার অন্তর্গত” এমন ভাবনায়।

সারাংশে বলা যায়, বিএনপি-র সামনে এখন সময় সীমিত। রাষ্ট্রক্ষমতা পুনরুদ্ধার, দলীয় হিসাব-নিকাশ করা, কার্যকরী নেতৃত্ব গঠন করা—এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে: জনগণের সামনে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে ঘোষণা কতটুকু বাস্তব রূপ পাবে? এবং যদি ভোটে জয় হয়, তাহলে খালেদা জিয়া প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—তাতে শারীরিক, রাজনৈতিক ও আইনগত সব বাধা কি পেছনে থাকবে? অথবা না-হলেও তরিক রাহম্যানের শাসন গ্রহণ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে জনগণের কাছে?

একই সময়ে বিএনপি-র প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ এই রূপান্তরকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। ফলে আগামী নির্বাচন শুধু পার্টি জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, নেতৃত্ব গ্রহণ ও বাংলাদশি-রাজনীতিতে নতুন_old শক্তির প্রতিস্থাপন-পরিকল্পনার প্রতিযোগিতাও হয়ে উঠবে।

এই সংবাদটি সামগ্রিকভাবে বিএনপি-র নেতা মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এবং দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বিবেচনায় এনে রচিত হয়েছে। পাঠক-বৃন্দের আরও তথ্য জানতে হলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অথবা দলীয় ঘোষণাপত্রও অনুসন্ধান করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত