“আমরা শাপলা চেয়েছি, শাপলা আমাদের দিতে হবে” আদায় করে নিবো -সারজিস আলম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭ বার
“আমরা শাপলা চেয়েছি, শাপলা আমাদের দিতে হবে'' আদায় করে নিবো -সারজিস আলম

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নরসিংদীতে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় উত্তরাঞ্চল মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম দলটির প্রতীক “শাপলা” নিয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে বলেন, “আমরা শাপলা চেয়েছি, শাপলা আমাদের দিতে হবে। শাপলা কিভাবে আদায় করতে হয় সেটা আমরা জানি। প্রয়োজনে আবার মাঠে নামবো।”

রোববার সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলা এনসিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সারজিস আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) উদ্দেশ করে বলেন, সম্প্রতি কমিশন এমন একটি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে যাদের মাঠে কোনো সংগঠন নেই, রাজনৈতিক ভিত্তি নেই, নেই কোনো সক্রিয় নেতৃত্ব বা কার্যক্রম। অথচ এনসিপির মতো একটি কর্মক্ষম, আন্দোলননির্ভর দলকে এখনো প্রতীক না দেওয়া অন্যায়। এতে ইসি ইতোমধ্যেই নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতেই এনসিপির জন্ম। “আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি, ক্ষমতার জন্য নয়। এনসিপি হয় সরকারে থাকবে, নয়তো একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে। কোনোভাবেই আমরা কারো লেজুড়বৃত্তি করবো না, পোষা বা প্রথাগত জাতীয় পার্টির মতো দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হতে দেবো না।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “বাংলাদেশে আর আগের মতো ভোট ডাকাতি বা জোর করে ক্ষমতা দখলের সুযোগ নেই। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে। যারা পেশিশক্তি, অস্ত্র বা অর্থের প্রভাবে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের জবাব এবার ব্যালটে দেবে সাধারণ মানুষ।” তিনি দাবি করেন, এনসিপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে, ভবিষ্যতেও জনগণের পক্ষে তাদের এই আন্দোলন চলবে।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

সভায় সারজিস আলমের বক্তব্যের সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। জনগণ চায় একটি বিকল্প শক্তি, যারা তাদের কথা বলবে। এনসিপি সেই বিকল্প শক্তি হয়ে উঠেছে।”

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমান আচরণ করে এবং যারা মাঠে আছে, জনগণের মধ্যে কাজ করছে, সেই দলগুলোকেই অগ্রাধিকার দেয়। “আমরা রাজপথের রাজনীতি করি, ঘরে বসে পোস্টার বানাই না। যারা জনগণের কাছে নেই, তাদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে,” বলেন সারজিস।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার। তিনি বলেন, “বাংলার ইতিহাসে লক্ষণ সেন যেমন পলায়ন করেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও পালিয়ে গেছেন। ফ্যাসিস্ট শাসনের দোসররা এখন দিবাস্বপ্নে বিভোর—‘আপা ফিরে আসবেন’। তাদের উদ্দেশে বলছি, সেই দিন আর আসবে না।”

সাইফুল্লাহ হায়দার আরও জানান, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া এনসিপি কোনো রাজনৈতিক চুক্তি বা মীমাংসায় অংশ নেবে না। তিনি বলেন, “আমরা গণমানুষের দল। আমাদের রাজনীতি আইনি বৈধতা, জনগণের সমর্থন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কোনো চাপ, ভয় বা প্রলোভনে আমরা সিদ্ধান্ত বদলাব না।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আওলাদ হোসেন জনি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, “এনসিপি আজ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার করেছে। আমরা যেভাবে অল্প সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি, অন্য কোনো নতুন দল তা পারেনি।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়, সাইফ ইবনে সারোয়ারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সভায় বক্তারা সারজিস আলমের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, শাপলা প্রতীকের লড়াই শুধু একটি প্রতীকের বিষয় নয়, এটি এনসিপির অস্তিত্ব ও ন্যায়ের প্রতীক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সারজিস আলমের বক্তব্যে এনসিপি নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে—তারা এখন আর একটি বিকল্প নয়, বরং আগামী নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এনসিপি দেশের রাজনীতিতে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাদের উপস্থিতি বেড়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারী নেতারা দাবি করেন, এনসিপি এখন তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত। “শাপলা আমাদের প্রতীক, এটি বাংলাদেশের মাটির প্রতীক, শান্তির প্রতীক, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই প্রতীক আমরা জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনব না, জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেব,” বলেন সারজিস আলম।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই না দেশে আবার হিংসা-সংঘাত বা সহিংস রাজনীতি ফিরে আসুক। কিন্তু কেউ যদি জনগণের রায় কেড়ে নিতে চায়, তাহলে এনসিপি রাজপথে ফিরে যাবে। আমাদের আন্দোলন হবে জনগণের অধিকারের জন্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।”

অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা শাপলা প্রতীকের দাবিতে শ্লোগান দেন। সারজিস আলম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের প্রতীকই হলো শাপলা। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের পরিচয়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এনসিপি এখন তাদের পরবর্তী ধাপের দিকে এগোচ্ছে—নির্বাচনমুখী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করছে। তাদের প্রতীক আদায়ের আন্দোলন হয়তো আগামী নির্বাচনী রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সভা শেষে সারজিস আলমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ একে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার এটিকে নতুন এক উদীয়মান শক্তির প্রতীকী ঘোষণা বলছেন।

সারজিস আলমের ভাষায়, “শাপলা আমাদের অধিকার, আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এটি আমাদের দেওয়া না হলে আমরা মাঠে নামব—কারণ জনগণ জানে, শাপলা কিভাবে আদায় করতে হয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত