সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত অবশেষে হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ প্রদান করেছেন। আদালতের এই নির্দেশে মামলাটিকে রমনা থানায় তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন। দীর্ঘদিন ধরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। যদিও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বহুবার দাবি করা হয়েছে যে, সালমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর তদন্ত করা হয়নি। এবার মামলাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

সালমান শাহর মা, নীলা চৌধুরী, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করেছেন, সালমানকে হত্যা করা হয়েছে, তবে পুলিশ এই অভিযোগটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। পুলিশের যুক্তি ছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বের হয়ে আসে এটি হত্যাকাণ্ড, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। সালমানের পরিবারের অভিযোগের তির দীর্ঘদিনই সাবেক স্ত্রী সামিরার দিকে ছিল। তবে সামিরা বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে সামিরা খোলামেলা বলেন, “আত্মহত্যা যারা করে, তারা তো কিছু বলে না… এটা স্বাভাবিকভাবেই আত্মহত্যা।” তিনি আরও জানান, সালমান মানসিকভাবে ছিল ‘সুইসাইডাল বাই নেচার’। তাঁর ভাষায়, “এর আগে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে—মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেকর্ডে দুবারের প্রমাণ আছে, আরেকটি ঘটেছিল অন্য এক হাসপাতালে। তিন ঘটনাই আমার বিয়ের আগের।” সামিরা স্পষ্ট করেছেন, সালমানের আগের মানসিক চাপ ও পরিস্থিতিই আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ।

যদিও আদালত মামলাটি হত্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে, মামলায় অভিযুক্ত দুইজনের—সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং ডন হকের—খোঁজ মেলেনি। গত চার দিন ধরে সামিরার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং কোনো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বা কলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ডন হককে নিয়মিত ফোন ও খুদে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এই পরিস্থিতি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার অপ্রত্যাশিত মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতকে শোকমগন করে দিয়েছিল। ২৯ বছর পরও সালমান শাহর নাম চিরস্মরণীয় থেকে গেছে, এবং আদালতের নতুন নির্দেশ ও মামলার পুনরুজ্জীবনের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে একধরনের উত্তেজনা ও আশা দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। মৃত্যুর আগের দিন তিনি ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এফডিসিতে ডাবিং চলাকালীন নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে খুনসুটি এবং আনন্দময় মুহূর্ত চলছিল। কিন্তু সেদিনের ঘটনায় যেন অদৃশ্য কিছু অশান্তি অপেক্ষা করছিল।

ডাবিংয়ের দিনে সালমান শাহ তাঁর বাবাকে ফোন করে বলেন, তার স্ত্রী সামিরাকে সাউন্ড কমপ্লেক্সে আনার জন্য। ফোন পাওয়ার পরপরই বাবা সামিরাকে সঙ্গে নিয়ে এফডিসিতে পৌঁছান। শ্বশুরের সঙ্গে সামিরাও উপস্থিত হন এবং দেখতে পান সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে খুনসুটি করছেন। তবে সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর সামিরাও দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। পরিস্থিতি জটিল বোঝার পর একই গাড়িতে ছিলেন সালমান শাহ ও চিত্রপরিচালক বাদল খন্দকার। গাড়িতে বসে সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি সামিরা; তবে বাদল খন্দকার তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। গাড়ি এফডিসির গেট পর্যন্ত গেলে সালমান প্রধান ফটকের সামনে নেমে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন। এরপর ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিন আর ডাবিং হয়নি। রাত ১১টায় সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন বাদল খন্দকার।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম জানান, শেষের দিকে সালমান মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবার ও প্রযোজকদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা তাঁকে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল। সামিরার বক্তব্য, পূর্বে নিজেকে হুমকির মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা, মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত দিকের ফাটল এই পুরো ঘটনায় প্রভাব ফেলে। সালমানের মৃত্যু শুধুমাত্র ঢালিউডের জন্য নয়, পরিবারের জন্যও গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।

সালমান শাহর হত্যাকাণ্ড বা অপমৃত্যুর রহস্য এখনও অমীমাংসিত। মামলার পুনরুজ্জীবন এবং রমনা থানায় তদন্তের নির্দেশ ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রীতদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে, তবে সামিরা ও ডনের অনুপস্থিতি তদন্তকে আরও জটিল করেছে। ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই রহস্যের উত্তরের অপেক্ষায় দেশের চলচ্চিত্র জগৎ, পরিবারের মানুষ এবং ভক্তরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত