প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ভাতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এটি সরকারের তরফ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং প্রেরণা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছে। চিঠিটি ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে এবং সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সকল সরকারি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের পুনঃনির্ধারিত দৈনিক ভাতা কার্যকর করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছিল। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দৈনিক ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ভাতার হারের মধ্যে রয়েছে: ৯ম গ্রেড বা তার নিচের পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য কেন্দ্রে অবস্থানকালে দৈনিক ৮০০ টাকা, মাঠ সংযুক্ত কাজের সময় এক হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কেন্দ্রে অবস্থানকালে দৈনিক ৬০০ টাকা এবং মাঠ সংযুক্ত কাজের ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও নির্দেশনা রয়েছে, এই ব্যয় বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে থেকে কার্যকর করতে হবে এবং অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। এছাড়া, সব আর্থিক বিধিবিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ভাতা প্রদানের সময় কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ঘটলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ তার জন্য দায়ী থাকবেন। এছাড়াও, এই খাতে খরচ শুধুমাত্র নিজস্ব রিসোর্স সিলিং-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশিক্ষণ ভাতা বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এটি শুধু প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনন্দিন খরচের বোঝা কমাবে না, বরং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগ্রহও বৃদ্ধি করবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে এটি পেশাগত উন্নয়নের একটি উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে মাঠ সংযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্রে অবস্থানকালে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বৃদ্ধি তাদের আর্থিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করবে।
শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা ইতিমধ্যেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকের মন্তব্য, প্রশিক্ষণ চলাকালীন অতিরিক্ত খরচের জন্য আগের ভাতা পর্যাপ্ত ছিল না। নতুন ভাতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রশিক্ষকরা বলছেন, এটি প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভাতা বৃদ্ধি শুধু আর্থিক সহায়তার প্রতীক নয়, এটি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি সরকারের গুরুত্বের দিকেও ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নতুন যোগদানকারীদের জন্য এটি পেশাগত উৎসাহ ও মানসিক স্বস্তি প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মানোন্নয়নেও সহায়ক হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাতা বৃদ্ধি বাস্তবায়নে সব সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সকল কর্মচারী উপকৃত হবেন। এটি সরকারের প্রশিক্ষণ খাতের উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, তারা ইতিমধ্যেই নতুন ভাতা হার অনুযায়ী হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের দৈনিক ভাতা প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করতে পারবে। এছাড়া, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং বিধিবিধান অনুসরণের জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশিক্ষণ ভাতা বৃদ্ধি কেবল সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়, পুরো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি প্রশিক্ষণের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করে তুলবে এবং কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, এটি সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মান উন্নয়নের একটি দৃঢ় সংকেত।
সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণপ্রার্থীরা আশা করছেন, নতুন ভাতা হার কার্যকর হওয়ার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মান এবং অংশগ্রহণের হার দুটোই বৃদ্ধি পাবে। এটি সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্যও একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।